হাতিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৯ পরিবার পানিবন্দি, দুর্ভোগ চরমে
হাতিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৯ পরিবার পানিবন্দি, দুর্ভোগ চরমে

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ, সাগরের উত্তাল জোয়ার ও নিষ্কাশনহীন জলাবদ্ধতায় এক ভাসমান জনপদে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবন। সব দুর্যোগকে ছাপিয়ে চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বিরিবিরি গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে এখানকার ৩৯টি পরিবার এখন কোমরসমান নোংরা পানির মধ্যে বন্দি।

সরেজমিনে দেখা গেল ভয়াবহ দৃশ্য

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায় এক বুক কাঁপানো দৃশ্য। চারদিকে থৈ থৈ করছে পানি। যে ঘরগুলো একসময় গৃহহীন মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল, আজ সেগুলোই পরিণত হয়েছে একেকটি ভাসমান খাঁচায়। ঘরের ভেতর পর্যন্ত কর্দমাক্ত পানি ঢুকে পড়ায় বিছানাই এখন বাসিন্দাদের একমাত্র চারণভূমি।

চুলা জ্বলছে না, কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে

পানির নিচে তলিয়ে গেছে রান্নার চুলা। ঘরে জমানো যসামান্য চাল-ডালও ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে গত কয়েকদিন ধরে বহু পরিবারে চুলা জ্বলেনি। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, অসুস্থ নারী ও অসহায় বৃদ্ধরা। বুক সমান পানি মাড়িয়ে নিরাপদ খাবার পানি সংগ্রহ করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বা পানিবাহিত রোগের মহামারি ডেকে আনতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাসিন্দাদের বক্তব্য

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রুবিন আক্তার বলেন, “কয়েক দিন ধইরা ঘরের ভেতর পানি ভাইসা উঠছে। বিছানায় উবু হয়ে বসে থাকতে হচ্ছে দিন-রাত। ছাওয়াল-পাওয়া নিয়ে না খেয়ে আছি, রান্না করার কোনো উপায় নেই। আমাদের দেখার কেউ নেই, কেউ এখনো একটা বার এসে খোঁজও নেয়নি।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরেক বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন জানান, “সরকারি আশ্রয়ণের ঘরগুলো তুলনামূলক নিচু এলাকায় হওয়ায় বৃষ্টির পানি খুব দ্রুত জমে গেছে। ঘরের ভেতরের চৌকি, আসবাবপত্র ও যৎসামান্য কাপড়-চোপড় সব পচে নষ্ট হচ্ছে। বাইরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। চারদিকে পানি থইথই করছে। কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ। ঘরে খাবার নেই, পকেটেও টাকা নেই। পরিবার নিয়ে যে কীভাবে বেঁচে আছি, তা শুধু আল্লাহই জানেন।”

ত্রাণ কার্যক্রম ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন পার হয়ে রাত নামলেও প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাহায্য এখনো তাদের হাত অব্দি পৌঁছায়নি। কিছু স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজেদের সাধ্যমতো সামান্য শুকনো খাবার বিতরণ করলেও তা চাহিদার তুলনায় সাগরে বিন্দু জলের মতো।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানিবন্দি মানুষের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কিছু এলাকায় ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যেসব দুর্গম এলাকায় এখনো সহায়তা পৌঁছায়নি, সেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।”