মনপুরায় পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ, অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে
মনপুরায় পানিবন্দি ২০ হাজার, অর্ধাহারে দিন কাটছে

ভোলার মনপুরায় টানা ৬ দিনের বর্ষণে উপকূলের ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। খাল-বিল, বাড়ি-ঘর সর্বত্র পানি। খেটেখাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে চিড়া-মুড়ি খেয়ে দিন কাটালেও অধিকাংশই অর্ধাহারে-অনাহারে রয়েছে।

জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

দীর্ঘ সময় ধরে পানি আটকে থাকায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতর ও উঠানে পানি জমে গেছে।

সবচেয়ে নাজুক এলাকাগুলো

উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের খাড়ির খাল, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালী এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের নিম্নাঞ্চল তিন-চার ফুট পানিতে ডুবে গেছে। দক্ষিণ সাকুচিয়ার রহমান গ্রাম, হাজিরহাটের দাসেরহাট ও চরযতিন, সোনারচর গ্রামের পূর্ব-পশ্চিম অংশ, মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিড়পার এলাকায় একই অবস্থা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ত্রাণের অভাবে ক্ষোভ

দুর্গত এলাকায় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা উপজেলা প্রশাসনের কেউ খোঁজ না নেওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ত্রাণ নিয়ে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার, আল-আমিন ও আক্তার হোসেন, দক্ষিণ সাকুচিয়ার ডা. কামাল হোসেন ও শ্রীকৃষ্ণ, উত্তর সাকুচিয়ার রিপন ও হাসান, এবং মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদার, জিসান চন্দ্র দাস ও শুভ্র বলেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করেই চারপাশে বেড়িবাঁধের কাজ চলায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, উপজেলার বেশ কয়েকটি স্লুইসগেট অকেজো এবং খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাউবোর বক্তব্য

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, 'সারা দেশের মতো মনপুরাতেও টানা বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারো হাত নেই। তবে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।'