মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের শাসন জোরালো আহ্বান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের শাসন জোরালো আহ্বান সি চিন পিংয়ের

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের শাসন জোরালো আহ্বান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচনা করে এই মন্তব্য করেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠককালে সি চিন পিং এই বক্তব্য দেন।

আন্তর্জাতিক আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কতা

বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক আইন নিজের সুবিধামতো ‘ব্যবহার করা এবং সুবিধা না থাকলে বর্জন করা’ যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিশ্বকে আমরা আবার “জঙ্গলের আইনে” (জোর যার মুলুক তার) ফিরে যেতে দিতে পারি না।’ বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলাকে ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করে আসছে, তবে চলমান সংঘাত নিয়ে সি চিন পিংয়ের এতটা স্পষ্ট মন্তব্য আগে খুব একটা দেখা যায়নি।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। গত শনিবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যা ‘বৈরী’ দেশগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগ তোলে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে, পাশাপাশি আরব আমিরাত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও কৌশলগত সম্পর্ক

চীনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে দেশটির জাহাজগুলো আটকে থাকায় গত মার্চে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে অপরিশোধিত তেল আমদানিও ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা আঞ্চলিক সংঘাতের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

বৈঠকে সি চিন পিং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চীনের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। যুবরাজ শেখ খালেদের এই চীন সফর দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আগামী মাসে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সি চিন পিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।