মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে চীনের প্রেসিডেন্টের চার দফা প্রস্তাব
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে চার দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বেইজিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বয়।
প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো
বৈঠকে শি জিনপিং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ‘যৌথ, বিস্তৃত, সহযোগিতামূলক ও টেকসই’ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করেন যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুরোপুরি সম্মান করতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তি, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে চীনের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেন যে এর কর্তৃত্ব বজায় না থাকলে বিশ্ব ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যেতে পারে। উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও মন্তব্য
এদিকে, বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ‘নতুন শীতল যুদ্ধ’, অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বিচ্ছিন্ন করার প্রবণতার বিরোধিতা করেন। তিনি ইউরোপ ও চীনের মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং চীনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে মূল্যায়নের কথা জানান। এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সহযোগিতা ও সমঝোতার গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।
চীনের এই প্রস্তাবগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত প্রশমনে একটি কাঠামোগত দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের উদ্যোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।



