তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা: কুওমিনতাং নেতা চেং লি-উনের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক বৈঠক
তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা: শি জিনপিং-চেং লি-উন বৈঠক

তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যে শি জিনপিং-চেং লি-উনের ঐতিহাসিক বৈঠক

তাইওয়ান প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে চীনের আরো ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যে তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাংয়ের (কেএমটি) শীর্ষ নেতা চেং লি-উন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত বুধবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম কোনো বর্তমান বা সাবেক তাইওয়ানি নেতার সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠক করলেন শি জিনপিং।

বৈঠকের তাৎপর্য ও বিশ্লেষণ

এই বৈঠককে তাইওয়ানের সাধারণ মানুষের কাছে একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিং মূলত এটি বোঝাতে চাইছে যে, তাইওয়ানের বর্তমান ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) বিপরীতে যারা বেইজিংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়, তাদের জন্য আলোচনার পথ সব সময় খোলা। শি এবং চেং উভয়ই তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন। তারা দীর্ঘদিনের এই বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের অবসান চান। চেং তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একত্রিত করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, 'বহিরাগত কোনো শক্তি আমাদের পুনর্মিলনের এই ঐতিহাসিক ধারাকে রুখতে পারবে না। আমরা সবাই একই জাতি এবং একই পরিবারের সদস্য।' তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান ও চীনের মধ্যকার মতপার্থক্য মেটানোর জন্য আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, চেং শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, 'যদি দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা হবে পুরো চীনা জাতির জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি।' তিনি ১৯৯২ সালের 'এক চীন' নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা কমিয়ে আনার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী বৈঠক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

এর আগে ২০১৫ সালে তাইওয়ানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মা ইং-জেউয়ের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্ট শি বৈঠক করেছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধের পর থেকেই চীন ও তাইওয়ান আলাদাভাবে শাসিত হয়ে আসছে। তবে চীন সব সময়ই তাইওয়ানকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এটি দখল করার হুমকি দিয়ে রেখেছে। এই বৈঠকটি তাইওয়ান প্রণালিতে উত্তেজনা কমানোর একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও তা এখনো অনিশ্চিত।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বৈঠকটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে তাইওয়ানের বর্তমান সরকার ডিপিপির প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়। চেং লি-উনের এই সফর তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, যেখানে কুওমিনতাং ও ডিপিপির মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমাগত বাড়ছে।