ট্রাম্পের চীন সফর বিলম্বিত, ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে উত্তেজনা
ট্রাম্পের চীন সফর বিলম্বিত, ইরান যুদ্ধে উত্তেজনা

ট্রাম্পের চীন সফর বিলম্বিত, ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে উত্তেজনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্ধারিত চীন সফর প্রায় এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, যা ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। সোমবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘বিষয়টি খুবই সোজা। এখন একটি যুদ্ধ চলছে। আমার এখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে এই সিদ্ধান্তে কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্য নেই এবং তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করছেন।

হরমুজ প্রণালী ইস্যু ও চীনের ভূমিকা

এর একদিন আগে যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, চীন যদি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা না করে, তাহলে তিনি বৈঠকটি স্থগিত করতে পারেন। এই মন্তব্য ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের জ্বালানি রপ্তানির একটি বড় ক্রেতা হিসেবে চীন ইতিমধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সফর বিলম্বিত হওয়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাণিজ্য নীতি তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রভাব

এদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করার পর যুক্তরাষ্ট্র চীনসহ কয়েকটি দেশের বাণিজ্য নীতি তদন্ত করার ঘোষণা দেয়। এই সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ইস্যুগুলোকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে চীনের অবস্থান এই উত্তেজনার মূল কারণ হতে পারে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যারা বিশ্বাস করেন যে ইরান সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন-চীন সম্পর্কে উন্নতি কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।