চীনে বাধ্যতামূলক ম্যান্ডারিন ভাষা শিক্ষা আইন পাস, সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উদ্বেগ
চীনে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে, যা কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সব শিশুকে বাধ্যতামূলকভাবে ম্যান্ডারিন ভাষায় শিক্ষা প্রদানের নির্দেশ দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেইজিংয়ে চীনের জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে এই আইনটি অনুমোদন করা হয়, সংসদের বার্ষিক অধিবেশন শেষ হওয়ার সময় এটি পাশ হয়।
আইনের বিস্তারিত ও সরকারের যুক্তি
আইন অনুযায়ী, এখন থেকে সব শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা শুরুর আগ থেকেই উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত ম্যান্ডারিন ভাষায় পড়ানো হবে। এর আগে, শিক্ষার্থীরা তিব্বতিয়ান, উইঘুর ও মঙ্গোলিয়ান মতো নিজেদের মাতৃভাষায় পাঠ্যক্রমের বড় অংশ পড়ার সুযোগ পেত। চীনা সরকার দাবি করছে যে, নতুন প্রজন্মকে ম্যান্ডারিন শেখালে তাদের চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় ঐক্য ও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হান চাইনিজ, যা মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশেরও বেশি।
সমালোচনা ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে শঙ্কা
তবে, সমালোচকরা এই আইনকে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির উপর চাপ সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখছেন। করনেল ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক মাগনুস ফিসকিসজো উল্লেখ করেছেন যে, এই আইন ১৯৪৯ সালের পর থেকে স্বীকৃত জাতিগত বৈচিত্র্য দমনের সাম্প্রতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো অভিভাবক শিশুদের মধ্যে এমন ধারণা ছড়ায় যা ‘জাতিগত সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর’, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে, তারা তিব্বত, জিনজিয়াং ও ইনার মঙ্গোলিয়ার মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে সাংস্কৃতিক অধিকার সীমিত করছে। সমালোচকদের মতে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংখ্যালঘুদের সংস্কৃতিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হান সংস্কৃতির সঙ্গে একীভূত করার নীতি আরও জোরদার হয়েছে। তিব্বতে ইতোমধ্যে অনেক সন্ন্যাসীকে গ্রেফতার এবং মঠগুলোর উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ জোরদারের অভিযোগ উঠেছে, যাতে তারা দালাইল লামার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে না পারে।
এই আইনটি চীনের ভাষা নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনছে, যা জাতিগত ঐক্য বনাম সংখ্যালঘু অধিকারের বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। সরকারের মতে, এটি একটি অগ্রগতিশীল পদক্ষেপ, কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হ্রাসের উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করছেন।



