চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সতর্কবার্তা: মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, চীন সবসময় জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিগুলো সমুন্নত রাখে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করার সম্ভাব্য পদক্ষেপকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন। ঢাকার চীন দূতাবাস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা
চীনের মতে, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ওয়াং ই উল্লেখ করেছেন, একটি সার্বভৌম দেশের নেতাকে নির্লজ্জভাবে হত্যা করা এবং শাসন পরিবর্তনকে প্ররোচিত করা দূরের কথা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের পক্ষে তাদের চলমান আলোচনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করা গ্রহণযোগ্য নয়। চীন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন যে, এই সংঘাত এখন পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি একটি বিপজ্জনক অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে চীনের তিন দফা অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে চীনের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনটি মূল দিক তুলে ধরা হয়েছে:
- সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ: সামরিক পদক্ষেপগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতি এড়াতে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়া এবং বিস্তৃতি রোধ করা উচিত। চীন উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তাকে গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং সংযম অনুশীলনের তাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।
- সংলাপ ও আলোচনায় ফিরে আসা: সংলাপ ও আলোচনায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসা উচিত। সব পক্ষের উচিত শান্তি প্রচার, যুদ্ধকে নিরুৎসাহিত করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংলাপ ও আলোচনার পথে ফিরে আসার আহ্বান জানানো উচিত।
- একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা: আমাদের একতরফা পদক্ষেপের যৌথভাবে বিরোধিতা করা উচিত। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত শান্তি ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। ‘জঙ্গলের আইনের’ বিরুদ্ধে বিশ্বের পশ্চাদপসরণের বিরোধিতা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠস্বর হওয়া উচিত।
চীনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ওয়াং ই-এর বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি চীনের অঙ্গীকারের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জোরালো দাবি প্রতিফলিত হয়েছে।
