চীন-জার্মানির বৈঠকে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার, ইউক্রেন যুদ্ধসহ মতপার্থক্য সত্ত্বেও
বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন ও জার্মানি বুধবার তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষ অস্থির বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়।
নেতাদের বৈঠকে কৌশলগত যোগাযোগের তাগিদ
এই অঙ্গীকার এসেছে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের বেইজিং সফরের সময়। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সাথে পৃথক বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিওপলিটিকাল উত্তেজনা ও বৈশ্বিক গতিশীলতা পরিবর্তনের এই সময়ে গভীর যোগাযোগ ও আস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর নেতারা জোর দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, "বিশ্ব যত জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, চীন ও জার্মানির জন্য কৌশলগত যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করা তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে বিশ্ব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে গভীর পরিবর্তনের মুখোমুখি।
মের্জের প্রথম চীন সফর ও ইউক্রেন ইস্যু
মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে এসে চ্যান্সেলর মের্জ বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে বেইজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, চীনা নেতাদের কাছে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে তাদের প্রভাব ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে মস্কোতে বেইজিংয়ের সংকেতগুলো গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়।
চীন পুনরায় একটি রাজনৈতিক সমাধানের সমর্থন জানিয়েছে, যেকোনো সমাধান সকল পক্ষের বৈধ উদ্বেগের সমাধান করতে হবে এবং সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে বলে তারা মন্তব্য করেছে।
বাণিজ্য ভারসাম্য ও বিনিয়োগের চাহিদা
মের্জ জোর দিয়ে বলেছেন যে ইউরোপ চীনের সাথে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য অংশীদারিত্ব চায়। তবে বাণিজ্য বৈষম্য এখনও একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। গত বছর জার্মানির চীন থেকে আমদানি ৮.৮% বেড়ে ১৭০.৬ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে, অন্যদিকে চীনে রপ্তানি ৯.৭% কমে ৮১.৩ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।
ইউরোপীয় নেতারা স্থানীয় উৎপাদনে আরও চীনা বিনিয়োগ এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সৌর প্যানেলের মতো খাতে শিল্পের অতিরিক্ত সক্ষমতা হ্রাস চান। মের্জ বলেছেন যে তিনি আলোচনায় সন্তুষ্ট এবং সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সহযোগিতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ১২০টি এয়ারবাস বিমানের সম্ভাব্য চীনা অর্ডার।
প্রযুক্তি হাব পরিদর্শন ও ওয়াশিংটন যাত্রা
চ্যান্সেলর মের্জ হাংচৌর প্রযুক্তি হাব পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে রোবোটিক্স ফার্ম ইউনিট্রি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর তিনি ওয়াশিংটনে আরও আলোচনার জন্য যাবেন। এই সফরটি এমন সময়ে হয়েছে যখন অনেক বিশ্ব নেতা বেইজিংয়ে যাচ্ছেন, আর চীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক নীতি ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমর্থন চাইছে।
চীন ও জার্মানির এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান জটিল প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
