কেরালার নাম পরিবর্তন: 'কেরলম' নামে পরিচিত হবে রাজ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক
কেরালার নাম 'কেরলম' হলো, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক

কেরালার নাম পরিবর্তন: 'কেরলম' নামে পরিচিত হবে রাজ্য

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কেরালার নাম পরিবর্তন করে 'কেরলম' করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছে। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

কেরালার বিধানসভায় ২০২৩-২৪ সালে দুবার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল। অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। রাজ্যের পিনারাই বিজয়ন সরকারের যুক্তি ছিল যে মালয়ালম ভাষায় রাজ্যের নাম 'কেরলম'ই সঠিক, এবং সংবিধানের অষ্টম তফসিলেও এটি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন যে এই সিদ্ধান্তে কেরালার জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিজেপি আগামী বিধানসভা ভোটে ভালো ফলাফলের আশায় এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। কেরালায় সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম ফ্রন্ট সরকার রয়েছে, এবং বিজেপি তৃতীয় শক্তি হিসেবে দ্রুত প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।

দক্ষিণ ভারতে বিজেপির কৌশল

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ভারতে প্রভাব বিস্তারে সক্রিয়। কর্ণাটকে ক্ষমতা হারানোর পর, তারা তামিলনাড়ু ও কেরালায় ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তেলেঙ্গানায়ও তারা কংগ্রেসের কাছে হেরেছে। শুধু অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপির সঙ্গে জোট বেঁধে তারা ক্ষমতায় রয়েছে। বিজেপির লক্ষ্য হলো কেরালায় সিপিএম ও কংগ্রেসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা, এবং নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সেই কৌশলের অংশ।

তামিলনাড়ুতেও বিজেপির নজর রয়েছে, যদিও সেখানে তারা সাফল্য পায়নি। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি বারবার সেখানে গিয়ে প্রকল্প মঞ্জুর করেছেন এবং ঐতিহাসিক 'সেঙ্গল' রাজদণ্ড সংসদে স্থাপন করেছেন। তবে তামিলনাড়ুর ভোটাররা বিজেপির প্রতি সদয় হননি, এবং লোকসভা ভোটে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট জয়ী হয়েছে।

ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তির প্রচেষ্টা

বিজেপি সরকার ঔপনিবেশিকতা ঝেড়ে ফেলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ভবনে এডউইন লুটিয়েন্সের মূর্তি সরিয়ে চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারির মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী মোদি 'ঔপনিবেশিক মানসিকতা' থেকে বেরিয়ে আসার অঙ্গ বলে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও, 'মোগল উদ্যান'-এর নাম বদলে 'অমৃত উদ্যান' এবং রাজপথের নাম 'কর্তব্য পথ' রাখা হয়েছে। নতুন সংসদ ভবনে সংস্কৃত ভাষার প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, এবং আইনের নামগুলো সংস্কৃতে রাখা হচ্ছে।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেরালাবাসীদের অভিনন্দন জানালেও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে সিপিএমের সঙ্গে বিজেপির আঁতাতের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মমতা আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নাম 'বাংলা' রাখার প্রস্তাব ২০১৮ সাল থেকে কেন্দ্রের কাছে পড়ে আছে, কিন্তু সরকার তা অনুমোদন করেনি।

কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এক্স হ্যান্ডলে খোঁচা দিয়ে জানতে চেয়েছেন, 'কেরলম'-এর বাসিন্দাদের জন্য 'কেরালাইট' ও 'কেরালান' শব্দ দুটির কী হবে। তিনি মজা করে বলেছেন, 'কেরালামাইট' শব্দটি জীবাণুর মতো শোনায় এবং 'কেরালামিয়ান' বিরল খনিজ পদার্থের মতো।

এই নাম পরিবর্তন কেরালার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এটি একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।