বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের একটি মুহূর্ত। ১৫ মে, ২০২৬। ১৩ মে সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বেইজিং পৌঁছালেন, তখন গ্রেট হলের সামনে অপেক্ষা করছিলেন শান্ত, স্থির, আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ। তিনি সি চিন পিং। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সর্বোচ্চ নেতা। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, দেশের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনীর প্রধান—একই সঙ্গে তিনটি পদের অধিকারী। কিন্তু এ পরিচয়গুলোর আগে আরেকটি পরিচয় আছে, যেটি না জানলে সি চিন পিংকে বোঝা যায় না। তিনি এমন একজন, যাঁর বাবাকে দল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, পরিবার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আগুনে। সেসব পার হয়ে, একটি গুহাগ্রামে তিন বছর কাটিয়ে, চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষ হয়ে উঠেছেন তিনি।
রাজকীয় শৈশব
১৯৫৩ সালের ১৫ জুন বেইজিংয়ে জন্ম হয় সি চিন পিংয়ের। বাবা সি চুং সুন ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের অন্যতম নায়ক, ঐতিহাসিক লংমার্চের (১৯৩৪-৩৫ সাল) যোদ্ধা এবং মাও সে-তুংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা। সি যখন জন্মালেন, বাবা তখন চীনের প্রচারমন্ত্রী, পরে উপ-প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পরিবারটি উঠে এল রাজধানী বেইজিংয়ের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসিক ও প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ঝংনানহাইয়ে—‘নিষিদ্ধ নগরের’ পাশে কমিউনিস্ট নেতাদের সুরক্ষিত বাসভূমিতে।
সির ছোটবেলা কেটেছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্যে। ঘরের বাইরে দেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে; ভেতরে তাঁদের জন্য বাবুর্চি, আয়া, গাড়িচালক, রাশিয়ার তৈরি গাড়ি, টেলিফোন আর বিশেষ খাবারের সরবরাহ। তবু বাবা চেষ্টা করতেন সন্তানদের বিলাসিতা থেকে দূরে রাখতে। এমনকি ছেলেকে বোনদের পুরোনো জামাকাপড় ও জুতা পরাতেন। তবে রং বদলে দিতেন, যেন দেখতে মেয়েদের মতো না লাগে।
পাঁচ বছর বয়সে সি ভর্তি হলেন বিখ্যাত আগস্ট ফার্স্ট স্কুলে; কমিউনিস্ট সামরিক বিজয়ের দিনটির নামে যার নাম। কিং রাজবংশের এক রাজকুমারের পুরোনো প্রাসাদে স্কুলটির অবস্থান। বেইজিংয়ের ‘নেতাদের দোলনা’ নামেও পরিচিত ছিল স্কুলটি। এখানে ছিল এক রাজকীয় পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা সবাই উঁচু কর্মকর্তাদের সন্তান। তারা একই আবাসনে থাকত, একই অবকাশকেন্দ্রে গ্রীষ্ম কাটাত এবং মনে করত, দেশ পরিচালনার অধিকার তাদের জন্মগত।
ভেঙে পড়ল সুরক্ষিত অবস্থা
১৯৬২ সাল। সির বাবা চুং সুনের বয়স তখন ৪৯। একটি উপন্যাসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে তাঁকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হলো। পাঠানো হলো কারাগারেও। পরিবারকে বের করে দেওয়া হলো ঝংনানহাই কমপ্লেক্স থেকে। ৯ বছরের সি চিন পিং হঠাৎ আবিষ্কার করলেন, পৃথিবীটা আর আগের মতো নেই।
এক বন্ধু পরে সিকে বলেছিলেন সেই সময়ের কথা, ‘তুমি এমন একটা পরিবেশে বড় হয়েছ, যেখানে সব কিছু দেওয়া হতো। হঠাৎ সব কেড়ে নিয়ে শীতের মধ্যে নগ্ন করে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হলো।’ যে ছেলেরা তাদের বাবাদের ক্ষমতার কারণে গর্বিত ছিল, পরে তারাই লাইব্রেরি থেকে লুকিয়ে বই চুরি করত, কারণ পড়ার বই ছাড়া সান্ত্বনা আর কীই–বা ছিল।
১৯৬৬ সাল। মাও সে–তুং সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘোষণা করলেন। এবার শুধু বাবা নয়, পুরো সি পরিবারকে শাস্তি দেওয়া হলো ‘বাবার পাপের’ জন্য। মা কি সিনকে পাঠানো হলো গ্রামের শ্রম শিবিরে। সির স্কুলে পড়া বন্ধ হয়ে গেল। রেড গার্ডরা (মাও সে-তুংয়ের আহ্বানে গড়ে ওঠা উগ্র তরুণ আধা সামরিক দল) তাঁদের বাড়িতে হানা দিল, লুটপাট করল।
সি চিন পিং ছিলেন রেড গার্ডের চোখে দ্বিতীয় শ্রেণির। না পারতেন রেড গার্ডে যোগ দিতে, না পারতেন নিরাপদে থাকতে। আর ঠিক সেই অস্থির সময় তাঁর সৎবোন হেপিং সামরিক একাডেমিতে আত্মহত্যা করলেন।
গুহায় ৩ বছর: ‘ভাঙা মানুষের’ নতুন জন্ম
১৯৬৯ সাল। ১৫ বছরের সি চিন পিং ১৪ জন কিশোরের সঙ্গে ট্রেনে উঠলেন। গন্তব্য শানসি প্রদেশের ইয়ানআন অঞ্চলের লিয়াংজিয়াহ গ্রাম। ট্রেনে সবাই কাঁদছিল। সি পরে বলেছিলেন, ‘সবাই কাঁদছিল, কিন্তু আমি হাসছিলাম। বেইজিংয়ে থাকলে বাঁচতাম কি না, জানতাম না।’ টানা তিন দিনের যাত্রা শেষে ট্রেন, ট্রাক ও হেঁটে পৌঁছালেন সেই গ্রামে। কিন্তু এ গ্রাম ছিল দারিদ্র্যে জর্জরিত।
গ্রামে ছিল হলুদ বর্ণের পাহাড় ও হলুদ মাটির মধ্যে ছোট এক জনবসতি। মানুষ থাকত পাহাড়ের গায়ে কাদামাটি দিয়ে দেয়াল তোলা গুহায়। ইট বিছানো কাং–এ (ইট ও মাটি দিয়ে তৈরি উঁচু মঞ্চ বিশেষ) ঘুম, রাতে খাবার হিসেবে মিলেট (জোয়ার জাতীয় শস্য) ও কাঁচা শস্যের জাউ, বালতিতে শৌচাগার। প্রথমেই সারা শরীর ছারপোকার কামড়ে ক্ষত হয়ে গেল সির। কিশোর সির চেয়ে বয়সে বড় একজন কৃষক শি ইউজিং (২৫) বলেছিলেন, ‘সে আমাদের মতোই কষ্ট পেয়েছে।’
শুরুতে ওই পরিবেশে সির মানিয়ে নেওয়াটা কঠিন ছিল। মাঠে কাজ করতে গিয়ে অন্যদের চেয়ে কম কাজ করতে পারলেন। কাজের ভার কমাতে ধূমপান শুরু করলেন। কারণ, সেখানে ধূমপায়ী ব্যক্তিকে কেউ বাধা দিতেন না। তিন মাস পর সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে বেইজিং চলে গেলেন। কিন্তু সেখানে গ্রেপ্তার হলেন। ছয় মাস শ্রম শিবিরে কাটালেন।
কিন্তু ফিরে এলেন সেই লিয়াংজিয়াহ গ্রামে। শানসি প্রদেশে মোট সাত বছর কাটান সি। এর মধ্যে তিন বছর ছিলেন এ গুহা গ্রামেই। ফিরে আসার পর ধীরে ধীরে গ্রামটির মানুষের সঙ্গে মিশে গেলেন। শতাধিক কেজি ওজনের গমের বস্তা কাঁধে নিয়ে পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হাঁটলেন। সেচের নালা খুঁড়লেন, বাঁধ তৈরি করলেন, রাস্তা মেরামত করলেন। আর রাতে কেরোসিনের আলোয় পড়তেন মোটা বই, মেষ চরাতে চরাতেও হাতে থাকত বই।
২০০১ সালে চীনের পত্রিকায় দেওয়া একটি বিরল সাক্ষাৎকারে সি বলেছিলেন, ‘আমি বেশির ভাগ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট সহ্য করেছি। পাথরে শাণ দিলে ছুরি ধারালো হয়। মানুষ পরিশুদ্ধ হয় কষ্টের মধ্য দিয়ে। পরে যখনই সমস্যায় পড়েছি, ভেবেছি সেই দিনগুলোর কথা। তারপর কোনো কিছুই কঠিন মনে হয়নি।’
১০ বারের চেষ্টা: পার্টিতে যোগ দেওয়ার অদম্য লড়াই
গুহায় বসবাসের মধ্যেই সি কমিউনিস্ট ইয়ুথ লিগে যোগ দেওয়ার চেষ্টা শুরু করলেন। কিন্তু বারবার প্রত্যাখ্যাত হলেন। কারণ, একটাই—বাবার রাজনৈতিক পরিচয়। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের হিসাবে সাতবার, অন্য সূত্রে আটবার প্রত্যাখ্যানের পর অবশেষে লিগে সুযোগ পাওয়া গেল। এদিকে পার্টিতে (চীনা কমিউনিস্ট পার্টি/সিসিপি) যোগ দেওয়াও সহজ ছিল না। সেই চেষ্টায় প্রত্যাখ্যাত হন নয়বার; দশম চেষ্টায় ১৯৭৪ সালে পার্টির সদস্যপদ পান।
এরপর আর হাল ছাড়েননি। গ্রামে নেতৃত্বের গুণ প্রমাণ করতে শুরু করলেন। গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ হলে সির কাছে আসত মানুষ। এক বাসিন্দা লু নেংঝং নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে ঝামেলা হলে সি বলতেন, “দুদিন পরে এসো।” তত দিনে সমস্যা নিজেই মিটে যেত।’
১৯৭৫ সালে সি চিন পিং গ্রাম পার্টি শাখার সম্পাদক হলেন এবং বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেন।
সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় পড়ার পর সি বেছে নিলেন প্রদেশীয় রাজনীতি। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সি তাঁর বাবার অধীনে কাজ করা গেং বিয়াওয়ের সচিব হিসেবে কাজ করলেন। সিসিপির ওই সময়ের প্রভাবশালী নেতা গেং ছিলেন একই সঙ্গে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের মহাসচিব।
১৯৮২ সালে স্থানীয় পার্টি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করা সি পরের দুই দশক বিভিন্ন প্রদেশে দায়িত্ব পালন এবং বাবার মতোই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে নাম করলেন। ফুজিয়ান, ঝেজিয়াং ও সাংহাইয়ে দায়িত্ব পালন করলেন পর্যায়ক্রমে। ঝেজিয়াংয়ের ওয়েনঝু শহরের ব্যবসায়ীরা সিকে মনে রেখেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগের সমর্থক একজন পার্টির নেতা হিসেবে। ব্যবসায়ী ঝু দেওয়েন বলেছিলেন, ‘সি বেসরকারি ব্যবসার পক্ষে কথা বললেন, বললেন এটি অর্থনীতির অপরিহার্য অংশ। তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবসা সমান সুযোগে প্রতিযোগিতা করতে পারে।’
২০০২ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণ সদস্য হলেন সি। এটিই ছিল জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ। এরপর ধাপে ধাপে দলের ভেতরে অবস্থান পাকা করলেন। ২০০৭ সালে পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জায়গা পেলেন; যা ছিল দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার বৃত্তে প্রবেশ। পাঁচ বছর পর, ২০১২ সালে নির্বাচিত হলেন ক্ষমতাসীন সিসিপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে—চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদের পদে, সঙ্গে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে।
পরের বছর, ২০১৩ সালের ১৪ মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সি চিন পিং। চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) ওই দিন তাঁকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অনুমোদন দেয়।
বৈপরীত্যের মানুষ: সিকে বোঝা কঠিন কেন
বিবিসির একজন সাংবাদিক সি চিন পিংকে বর্ণনা করেছিলেন ‘সম্পূর্ণ বৈপরীত্যের মানুষ’ হিসেবে। তিনি একদিকে কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকার, অন্যদিকে সেই পার্টির শিকার। তিনি গ্রামের দরিদ্র মানুষের সঙ্গে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন, আবার তাঁর একমাত্র মেয়ে পড়েছেন হার্ভার্ডে—ভুয়া পরিচয়ে (নিজের পরিচয় লুকানোর স্বার্থে)।
সি চিন পিং বিদেশি সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হন, অথচ মার্কিন চলচ্চিত্র ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’, ‘দ্য ডিপার্টেড’, ‘দ্য গডফাদার’ পছন্দ করেন বলে জানা যায়।
একবার বিদেশ সফরে গিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছিলেন সি চিন পিং। বলেছিলেন, ‘পেটভর্তি খেয়ে যাদের আর কিছু করার নেই, তারা আঙুল তুলে আমাদের সমালোচনা করে। কিন্তু আমরা বিপ্লব রপ্তানি করি না, ক্ষুধা বা দারিদ্র্যও রপ্তানি করি না, তোমাদের জন্য ঝামেলাও তৈরি করি না। তাহলে আর কী চাও?’
সি চিন পিংয়ের রাজনৈতিক দর্শন বুঝতে হলে তাঁর বাবার কাছে ফিরতে হয়। সি চুং সুন ছিলেন এমন এক বিরল নেতা, যিনি মতাদর্শের চেয়ে বাস্তববাদকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে—উইঘুর থেকে তিব্বতি—মিলনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ১৯৭৬ সালে মাওয়ের মৃত্যুর পর পুনর্বাসিত হলেন এবং ১৯৮০-এর দশকে কমিউনিস্ট চীনে মুক্তবাজার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্রবর্তক হলেন।
সিকে বাবা বলেছিলেন, ‘যা-ই হোক, পার্টির প্রতি বিশ্বস্ত থেকো।’ ছেলে সেই নির্দেশ মেনে চলেছেন। বাবার বাস্তববাদী, মধ্যপন্থী চিন্তা তিনি জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করেছেন। তৈরি করেছেন ‘সি চিন পিং চিন্তাধারা’। অনেকে মনে করেন, মাও চিন্তার সমতুল্য একটি রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
গুহা এখন তীর্থস্থান, ইতিহাস হয়ে ওঠার রাজনীতি
লিয়াংজিয়াহ এখন আর শুধু একটি দরিদ্র গ্রাম নয়। এটি পরিণত হয়েছে চীনের অন্যতম জনপ্রিয় ‘দেশপ্রেমিক শিক্ষাকেন্দ্রে’। লাখ লাখ মানুষ তীর্থযাত্রীর মতো সেই গুহা দেখতে যান, যেখানে সি কাটিয়েছিলেন তিনটি বছর।
নিউইয়র্ক টাইমসের ক্রিস বাকলি লিখেছেন, ‘মাওয়ের জন্মস্থান শাওশান যেমন একসময় “লাল প্রহরী”দের তীর্থ ছিল, লিয়াংজিয়াহ তেমনই হয়ে উঠেছে সি যুগের আইকনিক স্থান।’
পরিশেষে বলতে হয়, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ের গ্রেট হলে সি চিন পিংয়ের সামনে বসলেন, দুজনের মধ্যে কথা হলো ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি, বাণিজ্য, তাইওয়ান নিয়ে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় দুই পরাশক্তির দুই নেতা আলোচনার টেবিলে। কিন্তু একটু গভীরে গেলে দেখা যায়, একদিকে আছেন একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, যিনি ক্ষমতায় এসেছেন নির্বাচনে; অন্যদিকে একজন ক্যারিশম্যাটিক মানুষ, যাঁর রাজনৈতিক শিক্ষা হয়েছে কারাগারে, শ্রম শিবিরে ও হলদে পাহাড়ি গুহায়।
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির চীন বিশেষজ্ঞ ফেং চংই বলেছেন, ‘সি চিন পিং দেখাতে চান যে তিনি শুধু পার্টির নেতা নন, তিনি চীনের জন্য একজন আধ্যাত্মিক দ্রষ্টা, একজন সাহসী ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।’ আর এ দৃষ্টিভঙ্গির শিকড় সেই গুহাতে।
যে পার্টি যে–ই বাবাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেই পার্টির সর্বোচ্চ নেতাই হলেন ছেলে। এটি শুধু ব্যক্তিগত বিজয়ের গল্প নয়, এটি এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির গল্প, যেখানে টিকে থাকাই সবচেয়ে বড় প্রতিভা। সি চিন পিং সেই প্রতিভার অন্যতম সেরা উদাহরণ। গুহা থেকে গ্রেট হল—এই দীর্ঘ যাত্রা এখনো শেষ হয়নি।



