ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে রওনা দিয়েছেন। ছয় দিনের এই সফরকে ভারত সরকার পূর্বমুখী নীতি আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে।
সফরের মূল লক্ষ্য ও বক্তব্য
সফর শুরুর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, 'ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হবে। একই সঙ্গে মুক্ত, উন্মুক্ত ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এমন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লক্ষ্যে ভারতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।'
ভারত সরকারের ভাষ্য, এই তিন দেশ সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, সমুদ্র নিরাপত্তায় সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
ইন্দোনেশিয়া সফর
প্রধানমন্ত্রীর সফর শুরু হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া দিয়ে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে তিনি সেখানে দুই দিন অবস্থান করবেন। এ সময় দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিবৃতিতে মোদি জানান, ২০১৮ সালে তার ইন্দোনেশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করা হয়েছিল। এরপর এটি তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বহুমাত্রিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী সফরকালে ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয়দের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রামবানান মন্দির পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। ভারত সরকারের মতে, এই মন্দির দুই দেশের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
অস্ট্রেলিয়া সফর
ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে মোদি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যাবেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তির চলাচল এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুই দেশই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সমুদ্র নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড সফর
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন নিউজিল্যান্ডে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত সরকারের মতে, এই সফর পূর্বমুখী নীতির অধীনে ভারতের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও মজবুত করবে এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা সুদৃঢ় করবে।



