ইরান-মার্কিন সংঘাত স্থগিত, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার
ইরান-মার্কিন সংঘাত স্থগিত, অবরোধ প্রত্যাহার

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত এবং শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আলোচনার নির্ধারিত সময়কালে উভয় পক্ষই সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে বলে এক সমঝোতায় পৌঁছেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতি

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সব সমুদ্র বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে চুক্তির শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে। সেন্টকম তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছে যে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার সমস্ত নৌ-যান চলাচলের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে। তবে তাদের শক্তিশালী নৌ-জাহাজগুলো ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে যাতে চুক্তির প্রতিটি দিক কঠোরভাবে মেনে চলা হয়।

ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, অবরোধ শিথিল করার পর গত বুধবারই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়েছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী এক ডজনেরও বেশি জাহাজকে এই প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের অবস্থান

অন্যদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে যে যুদ্ধকালীন সময়ে হরমুজ প্রণালীতে পুঁতে রাখা মাইনগুলো দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আগামী ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি বা শুল্ক আদায় করা হবে না। তবে প্রণালী পার হতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোকে ইরানের একটি নতুন সরকারি সংস্থায় ট্রানজিট অনুরোধ জমা দিতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈশ্বিক প্রভাব

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয় এবং বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। বর্তমান এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তির চ্যালেঞ্জ

তবে এই ভঙ্গুর চুক্তিটি এখনো বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত উপস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ৬০ দিনের আলোচনা শেষে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যেখানে ইরান পরবর্তীতে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে, তা এই চুক্তির স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

মার্কিন সমালোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সাথে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করায় দেশের অভ্যন্তরে সমালোচনার মুখে পড়েছে। চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই মার্কিন ছাড় হিসেবে দেখছেন। তবে এই সমালোচনার জবাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, মানুষ যখন এই চুক্তি এবং দেশের আলোচনার অবস্থানটি পুরোপুরি বুঝতে পারবে, তখন তারা উপলব্ধি করবে যে এটি মার্কিন জনগণের জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি সিদ্ধান্ত।