ইসরাইলকে একঘরে করতে ইরানের নতুন কৌশল: লেবানন সংকটকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটে ফাটল
ইসরাইলকে একঘরে করতে ইরানের কৌশল: লেবানন সংকটে ফাটল

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের চলমান হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতময় পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তেহরান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অবিচ্ছেদ্য জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। এই দুই পরম মিত্র দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে ইরান লেবানন পরিস্থিতিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে ইরানের কৌশল

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুশতাই আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান বর্তমানে লেবাননকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে যাতে ইসরাইলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার ফাটলকে আরও চওড়া করা যায়। আপাতদৃষ্টিতে তেহরানের উদ্দেশ্য দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করা বলে মনে হলেও, বাস্তবতা ভিন্ন। তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ এবং খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানেন যে ইসরাইলি আক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করা এই মুহূর্তে খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ নিজেদের ওপর আঘাত এলে ইসরাইল অবশ্যই তার পাল্টা জবাব দেবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটে ফাটলের সুযোগ

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত না করতে ইসরাইলিরা সাময়িকভাবে কিছুটা শান্ত থাকতে পারে। তবে যেকোনো উসকানি বা হামলার মুখে তারা নিজেদের সুরক্ষায় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। এই জটিল পরিস্থিতিকে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যকার সম্পর্ককে দুর্বল করার একটি বিশাল সুযোগ হিসেবে দেখছে ইরান। এই মুহূর্তে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হলো এই দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক জোটে চির ধরানো, এবং এই উদ্দেশ্যেই তারা তাদের বর্তমান কৌশলগুলো পরিচালনা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ও লেবানন ইসরাইল সংকটের জটিল প্রেক্ষাপটে, ইরানের এই কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।