ভারতে বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে। তার মধ্যে নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ক্রমশ সাধারণ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি নতুন আন্দোলন দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজিৎ দিপকে নামের এক ব্যক্তি, যিনি আগে অজ্ঞাত ছিলেন। তিনি এখন লক্ষ লক্ষ তরুণের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
মোদি সরকারের কৌশল
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সমর্থকরা এই আন্দোলনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তারা বরং জওহরলাল নেহরুকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সাফল্য উদযাপনে ব্যস্ত। নেহরু ৬,১২৯ দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, আর মোদি ১২ বছর পূর্ণ করেছেন। বিজেপি দাবি করছে, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি নেহরুকে টপকেছেন।
তবে সিজেপির দাবি হলো, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় তারা আরও বড় আন্দোলন শুরু করবে। ধর্মেন্দ্র প্রধান মোদির আস্থাভাজন, কারণ তিনি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সরকারের দ্বিধা
সরকার প্রথমে সিজেপির পেছনে পাকিস্তান ও জর্জ সোরোসের হাত দেখতে পেয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সিজেপির অনুগামী সংখ্যা বিজেপিকে ছাড়িয়ে যায়। তখন সরকার তাদের এক্স হ্যান্ডেল ব্লক করে দেয়। কিন্তু অভিজিৎ দিপকে যখন ভারতে ফিরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন, তখন সরকার তাকে গ্রেপ্তারের কথা ভাবে। শেষ পর্যন্ত দিল্লি হাইকোর্টে মামলা আমল না পাওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ভয়ে সরকার তাকে গ্রেপ্তার করেনি। বরং যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আন্দোলনের আন্তর্জাতিকতা। দ্বিতীয়ত, শশী থারুরের মতো শুভানুধ্যায়ীদের পরামর্শ যে গণতন্ত্রে ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ থাকা দরকার। তৃতীয়ত, তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
বেকারত্বের চিত্র
আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া’ রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫-২৫ বছর বয়সী শিক্ষিত ও স্নাতকদের ৪০ শতাংশ এবং ২৫-২৯ বছর বয়সীদের ২০ শতাংশ বেকার। দেশে ১৫-২৯ বছর বয়সীর সংখ্যা ৩৭ কোটি ৭০ লাখ, যা কর্মক্ষম জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। প্রতি বছর ৫০ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে, কিন্তু চাকরি পাচ্ছে মাত্র ২৮ লাখ।
সিজেপির হাতিয়ার হলো শিক্ষা ও চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো দুর্নীতি এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব। মধ্যবিত্ত ভারতীয়রা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। তাই এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তবে সামাজিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক করে তোলা সহজ নয়। বাংলাদেশ, নেপাল বা শ্রীলঙ্কায় যা সফল হয়েছে, ভারতের মতো বিশাল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশে তা কতটা সম্ভব, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।



