পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, আতঙ্কে ঘর ছাড়লেন মানুষ
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা শুক্রবার সন্ধ্যায় শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে প্রকম্পিত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৯। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৯ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়, যা আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভ করে। ভূগর্ভ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০১ কিলোমিটার।
ইফতারের সময় আঘাত হানা কম্পন
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ভূমিকম্পটি এমন এক সময়ে আঘাত হানে যখন দেশটির অধিকাংশ মানুষ ইফতারের প্রস্তুতি বা ইফতার গ্রহণে ব্যস্ত ছিলেন। কম্পন অনুভূত হওয়ার সাথে সাথে আতঙ্কিত মানুষজন তাদের ঘরবাড়ি ও ভবন ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে নিম্নোক্ত জেলাগুলোতে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে:
- শাংলা
- সোয়াত
- মারদান
- সোয়াবি
- নওশেরা
ভূমিকম্পের প্রভাবে পাকিস্তানের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, প্রাথমিকভাবে কোনো বড় ধরনের হতাহত বা ঘরবাড়ি ধসে পড়ার মতো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
হিন্দুকুশ অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণতা
উল্লেখ্য যে, হিন্দুকুশ অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রায়শই ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। তবে গতকালের ৫.৯ মাত্রার কম্পনটি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারিও পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছিল যে, ৫.৫ মাত্রার সেই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল বেলুচিস্তান প্রদেশের খুজদার শহর থেকে প্রায় ৭৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
উদ্ধারকারী সংস্থার সতর্ক অবস্থান
হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলের গভীর উৎপত্তিস্থল হওয়ার কারণে কম্পনের তীব্রতা বেশি থাকলেও ভূপৃষ্ঠে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলক কম হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। তবুও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ও স্থানীয় প্রশাসন উপদ্রুত এলাকাগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক দপ্তর থেকে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা আফটারশকের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পের প্রভাব মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ঘটনা পাকিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
