তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অভিষেক ঘটেই বাজিমাত করেছেন দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার থালাপাতি বিজয় এবং তার দল তামিঝাগাভেট্রি কাঝাগাম (টিভিকে)। রাজ্যটির বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে জয়ী হওয়ার পথে রয়েছে তারা। ১০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থেকে টিভিকে এখন ম্যাজিক ফিগার ১১৮-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এম কে স্টালিনের ডিএমকে এবং ই পি এস-এর এআইএডিএমকে-র মতো দ্রাবিড়ীয় পরাশক্তিগুলোকে যেভাবে তারা ভেঙে দিচ্ছে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও আগে থেকে অনুমান করতে পারেননি।
উল্লাস আর নীরব নায়ক
টিভিকে-র কার্যালয়গুলোতে এরই মধ্যে কান ফাটানো উল্লাস শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু যার জন্য এই বিজয়, সেই প্রধান নায়ককে এখনও কোথাও দেখা যাচ্ছে না। তার নির্বাচনি অভিষেকের প্রথম পর্বটি বক্স অফিসে সর্বসম্মতভাবে ব্লকবাস্টার ওপেনিং পেয়েছে। তবে তামিল সিনেমার বহুল আলোচিত ‘সেকেন্ড হাফ সিন্ড্রোম’ এর বিষয়টি মাথায় রেখে বিজয় কি এখন সতর্কভাবে পা ফেলছেন? তিনি কি ভক্ত ও কর্মীদের সামনে তার প্রধান সংলাপটি দেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সার্টিফিকেটের জন্য অপেক্ষা করছেন?
সহকারী চরিত্রদের ময়দানে নামা
প্রধান নায়ক পর্দার আড়ালে থাকলেও তার ‘সহকারী চরিত্রগুলো’ কিন্তু পুরোদমে ময়দানে নেমে পড়েছেন। বিজয়ের বাবা প্রবীণ চলচ্চিত্র নির্মাতা এস এ চন্দ্রশেখর তার স্বাভাবিক নিভৃতবাস ভেঙে থিরুত্তানি মুরুগান মন্দিরে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিজয়ের দীর্ঘদিনের সহ-অভিনেত্রী ও বন্ধু তৃষা ভোট গণনার আগের দিন তিরুমালা তিরুপতি মন্দিরে গিয়ে আশীর্বাদ চেয়েছেন। আজ তৃষার জন্মদিন।
তৃষার উপস্থিতি নাটকীয়তা বাড়িয়েছে
সোমবার দুপুরে তৃষাকে বিজয়ের নীলঙ্করাইয়ের বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। যা গণনার দিনের নাটকীয়তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার এই উপস্থিতি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামও হয়েছে।
বাড়িতে উৎসবের আবহ
বিজয়ের মা-বাবার বাড়িতে উৎসবের আবহ এখন পুরোপুরি ‘হুইসেল পোডু’। দলটির প্রতীক বাঁশি বাজিয়ে বাড়ির নারী ও শিশুদের উল্লাস করার ভিডিও এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এতে তাদের বসার ঘরটি যেন সিনেমার প্রথম দিন প্রথম শো-এর প্রেক্ষাগৃহের আবহে রূপ নিয়েছে।
বিজয়ের নীরবতা ও জ্যোতিষীর আগমন
তবুও বিজয়ের পক্ষ থেকে কোনও বার্তা মেলেনি; তিনি পুরোপুরি নীরব। সকালে বিজয়ের ম্যানেজার জগদীশকে নীলঙ্করাইয়ের বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়, যার ঠিক পরপরই সেখানে একজন জ্যোতিষী প্রবেশ করেন। সম্ভবত তারা দেখছেন যে এই বিজয়ের আনন্দ উদযাপনের মুহূর্তটির সাথে ‘রাহু কাল’ মিলে যাচ্ছে কি না। এক সময় সমালোচকেরা তার পানাইয়ুরের দলীয় কার্যালয়কে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম স্টেশন’ বলে উপহাস করেছিলেন। বর্তমানে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে এবং বড় ধরনের উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
হবু মুখ্যমন্ত্রী এখনও অদৃশ্য
কিন্তু বেলা ১টা বেজে গেলেও হবু মুখ্যমন্ত্রীকে এখনও কোথাও দেখা যায়নি। এই নিভৃত থাকার কৌশলটি অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টিভিকে গঠনের পর থেকে বিজয় সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেছেন। বিমানবন্দর বা চলার পথে হুট করে ইন্টারভিউ দেওয়ার অনিশ্চয়তার চেয়ে তিনি বড় জনসভার নিরাপদ পরিবেশকেই বেছে নিয়েছেন।
নীরব বিপ্লব
টিভিকে শিবিরের আবেগ এখন অনেক বেশি রোমাঞ্চিত। এমনকি কিংবদন্তি এমজিআর-এরও এই ধরনের একটি পরিবর্তন আনতে বছরের পর বছর সিনেমাটিক জনপ্রিয়তা ও তৃণমূল পর্যায়ে কাজের প্রয়োজন হয়েছিল। আর বিজয় তার আক্ষরিক নীরবতার মাধ্যমেই একটি ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটিয়েছেন, যা পুরো রাজ্যকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে



