পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় কলকাতার ভবানীপুর আসনে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজ্যের সামগ্রিক চিত্রে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা যাচ্ছে। খবর এনডিটিভির।
প্রাথমিক ফলাফলে বিজেপির এগিয়ে থাকা
সোমবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে ছিল ১৫৮টি আসনে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ছিল ১১৯টি আসনে। ২০২১ সালে ভরাডুবির মুখে পড়া কংগ্রেস এগিয়ে ছিল চারটি আসনে।
ভবানীপুরের লড়াই
ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়ছেন তার সাবেক সহযোগী ও বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতাকে দুই হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রাখতে মমতাকে ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হতে হয়েছিল।
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে শুভেন্দু আবারও মমতার বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসন থেকেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু এগিয়ে রয়েছেন।
ভবানীপুরের ইতিহাস
কলকাতা জেলার অন্তর্ভুক্ত ভবানীপুর আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালে সুব্রত বক্সী এ আসনে জয়ী হন। এর আগে এলাকাটি কালিঘাট আসন হিসেবে পরিচিত ছিল এবং ওই সময় চার নির্বাচনের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস।
২০১১ সালেই পরে উপনির্বাচনের মাধ্যমে সুব্রত বক্সীর জায়গায় বিধায়ক হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যাতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বিতর্ক
এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় দুই ধাপে—২৩ ও ২৯ এপ্রিল। নির্বাচনী প্রচারণায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ, সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ দেখা যায়। তবে উভয় দলই একে অপরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২১৫টি জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



