বাংলাদেশ-তুরস্কের কৌশলগত বিনিয়োগে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার
বাংলাদেশ-তুরস্কের কৌশলগত বিনিয়োগে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার

শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও তুরস্ক যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অগ্রসরে গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে দুই দেশ টেক্সটাইল ও পোশাক, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইসিটি এবং স্মার্ট প্রযুক্তিসহ মূল খাতে তুর্কি বিনিয়োগ চিহ্নিত করেছে।

যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার একটি হোটেলে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং উভয় দেশের সহযোগিতা গভীর করার অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।

এফটিএ ও পিটিএ নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের নির্দেশে তুরস্কের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও আলোচিত হয়েছে। বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১.৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে দুই দেশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খলিলুর রহমান তার তুর্কি সমকক্ষকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনার কথা জানান এবং প্রাইভেট ইকোনমিক জোন ও স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগে তুর্কি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা তুরস্ককে বাংলাদেশে একটি নিবেদিত এসইজেড স্থাপনে সহায়তা দিয়েছি।’ পাশাপাশি তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের অনুরোধ জানানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রোহিঙ্গা সংকটে তুরস্কের সমর্থন

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, তারা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক জোরদারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সমর্থনের কথা জানান। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ত্যাগের প্রশংসা করেন। ফিদান কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তুর্কি মানবিক সহায়তা প্রকল্প ও ফিল্ড হাসপাতালের কার্যক্রম দেখেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

খলিলুর রহমান বলেন, এই সফর পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়া গভীর করবে। বাংলাদেশ তুরস্কের কাছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীতায় সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শন দ্বারা পরিচালিত। বাংলাদেশ সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে কূটনীতিতে বিশ্বাস করে।

বাংলাদেশ তুরস্ককে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া তুরস্কে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বৃত্তি ও ভিসা সহজীকরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে তুরস্কে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ এই সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে সকল পক্ষের সাথে কাজ করে যাবে। তুরস্ক মানবিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সমর্থনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।