নিউ জিল্যান্ডের চারজন সংসদ সদস্যের (এমপি) ওপর এক বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। তাইওয়ান সফরের কারণে বেইজিং এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে নিউ জিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জানিয়েছে, গত মে মাসে তাইওয়ান সফর শেষে দেশে ফেরার পর ওই এমপিরা এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানতে পারেন। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমপিরা ক্ষমা চাইলে এই নিষেধাজ্ঞা কমানো বা মওকুফ করা হতে পারে।
চীনের দাবি ও নিউ জিল্যান্ডের প্রতিক্রিয়া
স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানের যেকোনও ধরনের অংশগ্রহণ বা যোগাযোগ কম রাখার চেষ্টা করে থাকে। তবে তাইওয়ান সফরের কারণে নিউ জিল্যান্ডের এমপিদের ওপর চীনের এমন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনা এটিই প্রথম। বেইজিংয়ের এই আকস্মিক পদক্ষেপে নিউ জিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বিস্মিত হয়েছেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র বলেন, নিউ জিল্যান্ডের এমপিরা গত কয়েক দশক ধরেই তাইওয়ান সফর করছেন এবং এই ধরনের সফর নিউ জিল্যান্ডের ‘এক চীন নীতি’র সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।
চীনা দূতাবাসের বিবৃতি
অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীনের ‘গুরুতর উদ্বেগ’ উপেক্ষা করে এবং সংসদ সদস্য হিসেবে জোরপূর্বক তাইওয়ান সফর করার কারণেই ওই এমপিদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই সফর তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থি শক্তিগুলোকে ‘ভুল বার্তা’ দিয়েছে, যা মূলত চীনের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের’ শামিল।
এমপিদের পরিচয় ও প্রতিক্রিয়া
গত মে মাসে তাইওয়ান সফরে যাওয়া ওই প্রতিনিধিদলে নিউ জিল্যান্ডের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের তিন আইনপ্রণেতা মরিন পুঘ, ডেভিড উইলসন ও লরা ম্যাকক্লুর এবং বিরোধী দল লেবার পার্টির ডানকান ওয়েব অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
নিউ জিল্যান্ডের ক্ষমতাসীন জোটের শরিক এসিটি পার্টির এমপি লরা ম্যাকক্লুর চীনের এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে এক ধরনের ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান সফরের জন্য আমি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইতে যাচ্ছি না।
সূত্র: বিবিসি



