অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং জাতীয় ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বুধবার (২০ মে) দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে রয়েছে ইরান।
জাতীয় সংহতি জোরদারের আহ্বান
ভাষণে খামেনি বলেন, সরকারের তিনটি শাখার নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সবপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জাতীয় সংহতি বাড়াতে হবে এবং অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে যাতে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হয়।
পার্লামেন্ট স্পিকারের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
একই দিনে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যুদ্ধ শুরুর চেষ্টা করছে এবং এখনও আশা করছে ইরান আত্মসমর্পণ করবে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ থাকলেও ওয়াশিংটন সামরিক লক্ষ্য থেকে এখনও সরে আসেনি। গালিবাফ আরও বলেন, আমেরিকা বিভিন্ন অজুহাতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, কিন্তু ইরানি জনগণ তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আইআরজিসির সতর্কবার্তা
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন পুনরায় শুরু হলে সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে এবং যেকোনো হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হলে শত্রুদের অপ্রত্যাশিত চমক মোকাবিলা করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ইরান তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে এবং প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেবে না। আরাঘচি আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরান সবসময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।
সূত্র: সিসিটিভি



