আম্রপালি আমের নামকরণের পেছনে ঐতিহাসিক নর্তকীর কাহিনী
আম্রপালি আমের নামকরণের ঐতিহাসিক নর্তকীর কাহিনী

আমকে বলা হয় ফলের রাজা। স্বাদ, ঘ্রাণ আর পুষ্টিগুণ—সব মিলিয়ে গ্রীষ্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে এটি একটি। দেশের বাজারে নানা জাতের আমের ভিড়ে বিশেষভাবে পরিচিত আম্রপালি। ছোট আকার, গাঢ় মিষ্টি স্বাদ আর দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করার ক্ষমতার কারণে এই আমের চাহিদা বেশ বেশি।

আম্রপালি নামের পেছনের ইতিহাস

তবে শুধু স্বাদ নয়, আম্রপালি নামটির পেছনেও রয়েছে ইতিহাস ও রোমাঞ্চে ভরা এক গল্প। কৃষিবিদ ও ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত এক নর্তকীর নাম থেকেই এসেছে এই আমের নাম।

ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে প্রাচীন ভারতে বৈশালি নামে একটি সমৃদ্ধ নগর ছিল। সেই নগরের এক রাজউদ্যানে আমগাছের নিচে এক শিশুকন্যাকে কুড়িয়ে পাওয়া যায়। পরে উদ্যানের রক্ষকই শিশুটিকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। আম্রতলায় পাওয়া বলেই তার নাম রাখা হয় ‘আম্বপালি’ বা ‘আম্রপালি’।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বড় হওয়ার পর আম্রপালি হয়ে ওঠেন সেই সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও রূপসী নর্তকী। তার সৌন্দর্য ও নৃত্যগুণ নিয়ে চারদিকে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাকে বৈশালির ‘নগরবধূ’ হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। পরে জীবনের শেষ সময়ে তিনি গৌতম বুদ্ধের অনুসারী হন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

আম্রপালি আমের উদ্ভাবন

এই ঐতিহাসিক চরিত্রের নাম থেকেই ১৯৭৮ সালে ভারতের কৃষি গবেষকরা নতুন এক জাতের আমের নাম রাখেন ‘আম্রপালি’। গবেষকেরা ‘দশেহরি’ ও ‘নীলাম’ জাতের আমের সংকরায়নের মাধ্যমে এই জাত উদ্ভাবন করেন।

আম্রপালি আমের বৈশিষ্ট্য

আম্রপালি আম সাধারণত ছোট থেকে মাঝারি আকারের হয়। এর খোসা মসৃণ এবং পাকার পর হলুদাভ-সবুজ রং ধারণ করে। শাঁস গাঢ় কমলা, আঁশ কম এবং স্বাদ অনেক বেশি মিষ্টি। এছাড়া এই আম তুলনামূলক দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করা যায়। সাধারণত জুনের শেষভাগ থেকে বাজারে ভালো মানের পাকা আম্রপালি পাওয়া যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ