ইরানে আয়োজন করা হয়েছে এক জমজমাট গণবিয়ের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ইরানিদের নিয়েই এই আয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার রাতে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় শত শত বর-কনে বিয়েতে অংশ নেন। তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ারে শতাধিক নারী-পুরুষের বিয়ে হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়, যার লক্ষ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইরানিদের মনোবল বাড়ানো।
‘জানফাদা’ কর্মসূচি
ইরানের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সরকারের এই গণবিয়ের কর্মসূচির নাম ‘জানফাদা’, যার বাংলা অর্থ ‘আত্মোৎসর্গ’। এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া ইরানিরা যুদ্ধে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। যেমন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তখন ওই কেন্দ্রের বাইরে মানব ঢাল হয়ে দাঁড়াবেন তাঁরা।
সরকারের সমর্থন বৃদ্ধির লক্ষ্য
ইরান সরকার বলেছে, লাখ লাখ মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানি কর্তৃপক্ষ এমন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশটিতে বড় বড় সরকারপন্থী সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন বৃদ্ধি।
বিয়ের অনুষ্ঠানের চিত্র
গতকাল রাতে ইমাম হোসেন স্কয়ারে বর-কনেরা হাজির হন সামরিক বাহিনীর জিপ গাড়িতে করে, যাতে লাগানো ছিল মেশিনগান। বিয়ের মঞ্চ ছিল বেলুন দিয়ে সাজানো। কনের পোশাক পরা এক তরুণী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নিশ্চিতভাবে দেশ যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। তবে তরুণ-তরুণীদেরও বিয়ের অধিকার রয়েছে।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক বর বলেন, ‘আমরা রাস্তায় থাকা মানুষকে শুভকামনা জানাতে এসেছি।’



