ইরান যুদ্ধের মাঝে সৌদি আরবে পাকিস্তানের বিপুল সেনা ও বিমান মোতায়েন
ইরান যুদ্ধের মাঝে সৌদি আরবে পাকিস্তানের বিপুল সেনা মোতায়েন

চলমান ইরান যুদ্ধের মধ্যেই এক দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই যুদ্ধে ইসলামাবাদ যখন প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, ঠিক তখনই রিয়াদের সঙ্গে এই সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

তিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং দুই সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই প্রথম এই মোতায়েনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও পরিধি প্রকাশ করা হলো। সূত্রগুলো এই বাহিনীকে একটি ‘উল্লেখযোগ্য ও যুদ্ধে সক্ষম’ বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরব যদি নতুন করে কোনও হামলার শিকার হয়, তবে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা করা। তবে এই মোতায়েন প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবের সরকারি সংবাদমাধ্যম কোনও মন্তব্য করেনি।

গত বছর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তগুলো অত্যন্ত গোপনীয়। তবে উভয় পক্ষই জানিয়েছে, এই চুক্তি অনুযায়ী যেকোনও এক পক্ষ আক্রান্ত হলে একে অপরের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে বাধ্য থাকবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে আভাস দিয়েছিলেন যে এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব মূলত পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক ছাতা’র সুরক্ষায় রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তান প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমান সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড্রন সৌদি আরবে পাঠায়, যার মধ্যে বেশির ভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ ফাইটার জেট। দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, এর পাশাপাশি পাকিস্তান দুটি ড্রোন স্কোয়াড্রনও পাঠিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাঁচটি সূত্রই নিশ্চিত করেছে যে এই মোতায়েনের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার সেনা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে চীনের তৈরি একটি এইচকিউ-৯ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাঠানো হয়েছে। এই সব সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রে অর্থায়ন করছে সৌদি আরব। তবে এগুলো পরিচালনা করছেন পাকিস্তানি সামরিক ব্যক্তিরা।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইরান সংঘাতের সময় মোতায়েন হওয়া এই সামরিক ও বিমানবাহিনীর কর্মীরা প্রাথমিকভাবে উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষণমূলক ভূমিকায় থাকবেন। তবে পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোর অধীনে ইতোমধ্যে হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদিতে যুদ্ধকালীন ভূমিকায় নিয়োজিত রয়েছে।

গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির নথিপত্র দেখেছেন এমন একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের সীমান্ত সুরক্ষায় দেশটির বাহিনীর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৮০ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করার সুযোগ রয়েছে এই চুক্তিতে। এ ছাড়া চুক্তিতে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে কোনও যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে মাত্রায় যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং হাজার হাজার সেনা পাঠানো হয়েছে, তাতে এটি স্পষ্ট যে পাকিস্তান কোনও প্রতীকী মিশন পাঠায়নি।

এর আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানি হামলায় এক সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সেখানে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। ওই ঘটনার পর সৌদি আরব বড় ধরনের প্রতিশোধ নিয়ে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

তবে এর পরপরই ইসলামাবাদ এই যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সাহায্য করে, যা গত ছয় সপ্তাহ ধরে বজায় রয়েছে। ইসলামাবাদ এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একমাত্র শান্তি বৈঠকের আয়োজন করেছে। যদিও পরবর্তী রাউন্ডের আলোচনাগুলো দুই পক্ষই বাতিল করে দেয়। পরে আরও জানা গিয়েছিল যে, সৌদি আরব তাদের দেশে হওয়া হামলার জবাবে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু অঘোষিত ও অপ্রকাশিত হামলা চালিয়েছিল। সূত্র: রয়টার্স