হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে বাহরাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
চীন ও রাশিয়ার ভেটোর সম্ভাবনা
সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রু হুদিস্টিয়ানুর মতে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া এই প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে এটি কার্যকর হওয়ার আগেই মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিগত সময়ের মতো এবারও চীন বা রাশিয়া যুক্তি দিতে পারে যে, এই প্রস্তাবটি যুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি যথেষ্ট সংবেদনশীল নয়। যদিও হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পেছনে ইরানকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবুও বেইজিং ও মস্কোর অবস্থান ইরানের পক্ষেই যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপের সম্ভাবনা
তবে হুদিস্টিয়ানু একটি বিকল্প সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তার চীনা সমকক্ষ শি জিনপিংয়ের ওপর যথেষ্ট কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারেন, তবে চীন ভোটদান থেকে বিরত থাকতে পারে। যদি চীন ভোটদান থেকে বিরত থাকে, তবে সেটি হবে একটি বড় ইঙ্গিত যে ইরানের এই অবরোধ চীনের ওপরও অর্থনৈতিকভাবে নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিশ্চিত করে কিছু বলার সময় এখনো আসেনি।
অন্যান্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ
এদিকে এই সংকটপূর্ণ জলপথে চলমান উত্তেজনা নিরসনে অন্যান্য প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোও সরাসরি হস্তক্ষেপের কথা ভাবছে। হুদিস্টিয়ানু জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যেই তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানে মোতায়েন করতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর এই তৎপরতা ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।



