আট বছর আগের এক পুনঃনামকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের নাম পরিবর্তন করে আবারও ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।
ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক শিকড়কে সম্মান
পেন্টাগন জানিয়েছে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের অধীনে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই কমান্ডের যে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক শিকড় রয়েছে, সেটির প্রতি সম্মান জানাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ডের আওতাভুক্ত এলাকা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান কর্তৃক ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি এটি প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কমান্ডটি ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউএসপিএসিওএম ব্যানারের অধীনে কাজ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত সামরিক কমান্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো এবং বৃহত্তম।
নাম পরিবর্তনের পটভূমি
এর আগে, ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই কমান্ডের নাম পরিবর্তন করে ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড রাখা হয়েছিল। পুরোনো নামে ফিরে যাওয়ার ব্যাখ্যায় পেন্টাগন বলেছে, ঐতিহ্যবাহী ইউএসপিএসিওএম নামটি পুনর্বহাল করার মাধ্যমে এই কমান্ডের গভীর ঐতিহাসিক শিকড়কে সম্মান জানানো হয়েছে, যা প্যাসিফিকে দায়িত্বরত সকলের মধ্যে একটি গর্বের অনুভূতি এবং সম্মিলিত চেতনাকে জাগ্রত করবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থেকে শুরু করে কোরিয়ান যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং অসংখ্য মানবিক সহায়তার কার্যক্রমে যৌথ বাহিনীর সমন্বয় সাধন, সব মিলিয়ে ইউএসপিএসিওএম নামের সঙ্গে কয়েক দশকের সামরিক ঐতিহ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব জড়িয়ে রয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা অপরিবর্তিত
প্রতিরক্ষা দফতর স্পষ্ট করেছে যে, নাম পরিবর্তন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ইউএসপিএসিওএম-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা অপরিবর্তিত থাকছে। একই সঙ্গে মিত্র ও অংশীদারদের নিয়ে একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত অঞ্চল বজায় রাখার যে মূল লক্ষ্য ও অঙ্গীকার, তাও অক্ষুণ্ন থাকবে।
উল্লেখ্য ২০১৮ সালে ততকালীন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিসের অধীনে ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সংযোগের বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে নাম পরিবর্তনের ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে সময় আমেরিকার জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে এই কমান্ডের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ম্যাটিস এটিকে বলিউড থেকে হলিউড এবং পেঙ্গুইন থেকে মেরু ভাল্লুক পর্যন্ত বিস্তৃত বলে বর্ণনা করেছিলেন।



