আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ডজনখানেক যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে আঙ্কারা। এই উচ্চপর্যায়ের সামরিক সম্মেলনে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্ক সফর ইঞ্জিন প্রাপ্তির পথ সুগম করলেও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মূল কারণ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।
ইঞ্জিন সরবরাহের সম্ভাবনা
ইস্তাম্বুলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এডাম-এর পরিচালক সিনান উলগেন এএফপিকে জানিয়েছেন, এই সম্মেলনে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কান যুদ্ধবিমানের জন্য আমেরিকার তৈরি জেনারেল ইলেকট্রিক এফ১১০ মডেলের প্রায় ৪০টি ইঞ্জিন সরবরাহের বিষয়ে ওয়াশিংটন সবুজ সংকেত দিতে পারে। তুরস্ক ইতিমধ্যে এই ইঞ্জিনের সাহায্যে তাদের তৈরি কানের কয়েকটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে যা সফলভাবে আকাশে উড়ছে। তবে কান প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার কাছ থেকে অতিরিক্ত ইঞ্জিন সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে।
কান যুদ্ধবিমান প্রকল্প
কান হলো একটি দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট স্টিলথ বা রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, যা তুরস্ক তাদের পুরোনো এফ-১৬ বিমানের বহরকে প্রতিস্থাপন করার জন্য দেশীয়ভাবে তৈরি করছে। এর মাধ্যমে আঙ্কারা বিশ্বের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করা দেশগুলোর বিশেষ ক্লাবে নিজেদের নাম লেখাতে চাইছে। তুরস্ক শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধবিমানে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনা করলেও সেই প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক নকশা তৈরির স্তরে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন এফ১১০ ইঞ্জিনটিতে কোনো উন্নত স্টিলথ সক্ষমতা নেই।
আগের ইঞ্জিন চালান ও বর্তমান আলোচনা
তুরস্ক গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম দফায় ১০টি এফ১১০ ইঞ্জিনের একটি চালান পেয়েছিল এবং আরও ৮০টি ইঞ্জিন ক্রয়ের জন্য মার্কিন সরকারের সাথে বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ২০১৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর থেকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ছাড়পত্র না পাওয়ায় এই প্রক্রিয়াটি আটকে ছিল।
এফ-৩৫ বিরোধ ও নিষেধাজ্ঞা
তুরস্কের এই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওয়াশিংটন ২০১৯ সালে আঙ্কারাকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কার করে। এর ঠিক এক বছর পর আমেরিকার পক্ষ থেকে সিএএটিএসএ বা কাটসা আইনের আওতায় তুরস্কের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা তুর্কি প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ফাটল ধরায়। সূত্র: মিডল ইস্ট আই।



