শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গাইডেড বোমা দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৮ জন নিহত এবং ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ১২
রাজধানী কিয়েভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র। কিয়েভে অবস্থানরত সাংবাদিকরা জানান, ভোররাতে পরপর দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রথম বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট পরই শহরে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
জেলেনস্কির তথ্য
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর রাশিয়া ১২০টির বেশি ড্রোন এবং ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকই ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। তিনি বলেন, ‘বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারির আগেই বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে।’ জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপে কাজ করার ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কিয়েভে আবাসিক ভবন, অফিস এবং একটি ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান চলছে।
সুমি, স্লোভিয়ানস্ক ও ওডেসায় হতাহত
উত্তরাঞ্চলের সুমি শহরে রাশিয়ার গাইডেড বিমান বোমার হামলায় একটি ছোট মেয়েসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র আরতেম কোবজার। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলের স্লোভিয়ানস্ক শহরে রুশ হামলায় একজন নিহত এবং দক্ষিণাঞ্চলের ওডেসা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আকাশ প্রতিরক্ষায় চাপ
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অতি দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একের পর এক হামলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে।



