ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর মূল কেন্দ্র ‘নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত একাধিক হামলায় ঘাঁটির কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স ও অন্তত ১২টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও পুনর্নির্মাণ ব্যয়
থিঙ্কট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটির মোট ক্ষয়ক্ষতি ২.২ বিলিয়ন থেকে ৫.১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। শুধু বাহরাইনের এই ঘাঁটি পুনর্নির্মাণে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কংগ্রেসের কাছে প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি ও বাস্তবতা
মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হামলায় কেউ নিহত হয়নি এবং ঘাঁটির কার্যক্রমে বড় প্রভাব পড়েনি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বেশিরভাগ কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, বর্তমানে শুধু একটি ছোট দল সেখানে মোতায়েন রয়েছে। সাবেক বিমান বাহিনীর সহকারী সেক্রেটারি ডক্টর রবি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আমাদের স্থাপনাগুলো সাহসিকতার সঙ্গে রক্ষা করেছি, কিন্তু যেসব যুদ্ধাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে ভেতরে ঢুকেছে, তা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোকে আঘাত করেছে। এটি গত ১০ বছর ধরে ইরানের স্ট্রাইক টেকনোলজির পরিধি ও নির্ভুলতা বাড়ানোরই ফল।’
ঘাঁটি স্থানান্তরের পরিকল্পনা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেন্টাগন নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করছে: কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন উপস্থিতি কমিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার বাইরে পশ্চিম দিকে ঘাঁটি সরানো; গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড নোড ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে স্থানান্তর; এবং ইসরাইলকে নতুন ঘাঁটি বা সামরিক কার্যক্রমের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা, কারণ যুদ্ধকালীন সময়ে ইসরাইল ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং প্লেনকে জায়গা দিয়েছিল।
কূটনৈতিক প্রভাব
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাহরাইনের রাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি সৌদি আরব সফর এড়িয়ে গেছেন, কারণ যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরব মার্কিন ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে রিয়াদের দূরত্ব তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তগুলো আগামী প্রজন্মের মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের রূপরেখা নির্ধারণ করবে।



