পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান শনিবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং বাণিজ্য, শ্রম ও কৌশলগত সহযোগিতায় বড় অগ্রগতি এই সফরের বৈশিষ্ট্য।
এফটিএ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, “মালয়েশিয়া বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।” তিনি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ফলাফল তুলে ধরেন। ড. রহমান জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে একটি পারস্পরিক উপকারী, ব্যাপক ও ভবিষ্যৎমুখী এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন দিগন্ত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে মালয়েশিয়ার কাছে তুলে ধরেছে। সফরের ছবি ও ভিডিওতে দুই প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ফুটে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ড. খলিলুর বলেন, সফরটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এনেছে।
দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ প্রচারে সহযোগিতা জোরদার করতে দুই মন্ত্রী পর্যায়ের নোট বিনিময় করেন।
শ্রম অভিবাসনে অগ্রগতি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশ নিরাপদ, নিয়মিত ও স্বচ্ছ শ্রম অভিবাসনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ৮ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন। উভয় দেশ বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ পুনরায় শুরু করতে, দক্ষ কর্মী প্রেরণ সহজ করতে, অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত করতে, অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিয়োগ খরচ কমাতে সম্মত হয়েছে।
ড. খলিলুর বলেন, যৌথ কর্মগোষ্ঠীর (জেডব্লিউজি) মাধ্যমে বিদ্যমান শ্রম সহযোগিতা স্মারক পর্যালোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, যা বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বা হালনাগাদ চুক্তির পথ সুগম করবে।
রোহিঙ্গা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে সঙ্কটের টেকসই সমাধান এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে সক্রিয় ভূমিকার আশ্বাস দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া আসিয়ান কাঠামোর মাধ্যমে ইস্যুটি এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং অগ্রগতি সহজ করতে মিয়ানমারের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আঞ্চলিক জোটের সাথে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা জোরদার করতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগ
ড. খলিলুর বলেন, মালয়েশিয়া জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বন্দর ও লজিস্টিকসের মতো অগ্রাধিকার খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।



