ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কঠিন সময়ে যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হবে। শনিবার (৪ জুলাই) চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে এ কথা বলেন চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রাহমানি ফাজলি। খবর এনডিটিভির।
ফি নেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়া
রাষ্ট্রদূত ফাজলি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ। তাই সেখানে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সেবার জন্য ফি নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটাকে কোনো ‘টোল’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর আওতায় নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাহাজ চলাচল তদারকি করা এবং বিপুল সংখ্যক জাহাজ চলাচলের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্ধু দেশের জন্য বিশেষ সুবিধা
ফাজলি আরও বলেন, ‘যেসব দেশ আমাদের কঠিন সময়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেছে এবং আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের জন্য অবশ্যই বিশেষ সুবিধা বিবেচনা করা হবে।’ এই মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, চীন ও রাশিয়ার মতো মিত্র দেশগুলো হয়তো কম ফি বা অন্যান্য সুবিধা পেতে পারে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় ইরান কার্যত এই নৌপথে চলাচল বন্ধ করে দিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ তুলে নেয়। বর্তমানে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।



