আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) শুক্রবার এক ঐতিহাসিক রায়ে বলেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। আদালত ইসরায়েলকে অবিলম্বে সব বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে এবং বিদ্যমান বসতি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আইসিজের রায়ের মূল বিষয়
আইসিজের ১৫ বিচারকের প্যানেল ১১-৪ ভোটে এই রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনের ৪৯ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে, যা অধিকৃত ভূখণ্ডে নিজ বেসামরিক জনগণের অংশ স্থানান্তর নিষিদ্ধ করে। আদালত আরও বলে, ইসরায়েলের বসতি নীতি ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার লঙ্ঘন করে।
ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি বলেন, “এটি আন্তর্জাতিক আইনের বিজয় এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সংগত সংগ্রামের স্বীকৃতি। আমরা আশা করি, এই রায় বসতি স্থাপনের অবসানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েল এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, “ইহুদি জনগণের নিজস্ব ভূমিতে বসতি স্থাপনের অধিকার রয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় বাস্তবতাকে অস্বীকার করে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।” ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি সম্প্রসারণ করে আসছে, যা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই রায় আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জোরদার করে এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ সুগম করে।” ইউরোপীয় ইউনিয়নও রায়কে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলকে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য রায়ের সমালোচনা করে বলেছে, এটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধানে সহায়ক নয়।
বসতি স্থাপনের প্রভাব
পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী রয়েছে। এই বসতিগুলো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ধারাবাহিকতা নষ্ট করে এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষুণ্ন করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি বসতিকে অবৈধ বলে বিবেচনা করে আসছে, কিন্তু ইসরায়েল তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আইসিজের এই রায় বসতি ইস্যুতে আইনি চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ভবিষ্যৎ করণীয়
আইসিজের রায় আইনত বাধ্যতামূলক হলেও এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের ওপর। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ রায়ের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবছে। ইসরায়েল অবশ্য রায়কে অগ্রাহ্য করার ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় বসতি ইস্যুতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।



