আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খানের আবেদনের ভিত্তিতে প্রিট্রায়াল চেম্বার এই সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযোগের বিবরণ
আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খান গত মে মাসে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং নির্যাতন।
আইসিসির সিদ্ধান্ত
আইসিসির প্রিট্রায়াল চেম্বার অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ যথেষ্ট বলে মনে করে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। চেম্বারের মতে, নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘যুক্তিযুক্ত ভিত্তি’ রয়েছে। পরোয়ানায় বলা হয়েছে, তারা গাজায় বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হামলা পরিচালনা এবং খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সরবরাহ বন্ধ করে অনাহার সৃষ্টির জন্য দায়ী।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েল সরকার আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘ইহুদিবিরোধী’ ও ‘রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত’ বলে নিন্দা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইসিসির কোনো এখতিয়ার নেই, কারণ ইসরায়েল আইসিসির সদস্য নয়।’ ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ‘এটি ইতিহাসের কলঙ্ক। আমরা এই সিদ্ধান্ত মানব না।’
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আইসিসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি আন্তর্জাতিক আইনের বিজয়।’ অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, আইসিসির এই পদক্ষেপ ‘শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে’। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আইসিসির সিদ্ধান্তকে সম্মান করে, তবে বাস্তবায়ন জটিল হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন নির্ভর করবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর। আইসিসির ১২৩টি সদস্য রাষ্ট্র এই পরোয়ানা বাস্তবায়নে বাধ্য। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশ আইসিসির সদস্য নয়, ফলে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা কম। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরোয়ানা প্রতীকী হলেও ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা।
গাজায় মানবিক পরিস্থিতি
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। জাতিসংঘের মতে, গাজায় মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। খাদ্য, পানি ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে ২৩ লাখ মানুষ আটকা পড়েছে। আইসিসির এই সিদ্ধান্ত গাজায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।



