এইচএসবিসির ‘ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬’ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী
এইচএসবিসির ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী

হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ ‘এইচএসবিসি ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬: দ্য বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা।

মূল বক্তব্য ও বিশেষ অতিথি

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদান করেন এইচএসবিসির প্রধান এশিয়া অর্থনীতিবিদ ও গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চের কো-হেড ফ্রেডেরিক নিউম্যান। তিনি বিশ্ব ও অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবণতা এবং বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। এছাড়া বিশেষ ভাষণ দেন এইচএসবিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব ব্যাংকিং, ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটস, এশিয়া প্রিয়া কিনি।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য

অনুষ্ঠানের ‘আস্ক দ্য মিনিস্টার’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তিনি আরও বলেন, সরকার কম আমলাতন্ত্র নিয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রপ্তানি বহুমুখীকরণে কী নীতি সহায়ক হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানো, নিয়ন্ত্রণমূলক বাধা কমানো, বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন খাতে সুযোগ সৃষ্টি করাই এর উত্তর।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফ্রেডেরিক নিউম্যানের পূর্বাভাস

ফ্রেডেরিক নিউম্যান বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি তার স্থিতিস্থাপকতা দিয়ে впечатলিত করে চলেছে। জ্বালানি তেলের দাম কমা, মার্কিন শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা স্থিতিশীল হওয়া এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকায় বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পোশাক রপ্তানি পুনরুদ্ধার হবে। চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার দেশে গতি পাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগ ও ভোগকে সমর্থন করবে। তাই বাংলাদেশ পুনরুদ্ধারের স্থির পথে রয়েছে, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৪% এ পৌঁছাতে পারে।”

প্রিয়া কিনি ও মাহবুব উর রহমানের মন্তব্য

প্রিয়া কিনি বলেন, “দ্রুত পরিবর্তনশীল সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাজারের গতিশীলতা সম্পর্কে সচেতন থাকা আমাদের গ্রাহকদের জন্য অপরিহার্য। এইচএসবিসি তাদের গ্লোবাল রিসার্চ টিমের অন্তর্দৃষ্টি ও দক্ষতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা ও উদীয়মান সুযোগ কাজে লাগাতে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের গল্পের পরবর্তী অধ্যায় নির্ধারিত হবে প্রবৃদ্ধির গুণগত মান ও টেকসইতার দ্বারা। বৈশ্বিক খরচ বৃদ্ধি ও তরলতা সংকোচনের মুখে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে মজবুত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে অগ্রসর হওয়ার ওপর। লক্ষ্য আর কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি বৈচিত্র্যময় রপ্তানি ইঞ্জিন ও প্রতিযোগিতামূলক, অভিযোজনযোগ্য এবং বিশ্বমঞ্চে বিশ্বস্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা।”