অবৈধ অভিবাসনে উৎসাহ দেওয়ায় গ্রিসে বাংলাদেশি যুবকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল
গ্রিসে বাংলাদেশি যুবকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার অভিযোগে গ্রিক সরকার এক বাংলাদেশি যুবকের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করেছে। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত দেশটি থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রিসের ঐতিহাসিক শহর নাফপ্লিওতে অবস্থানরত ওই যুবকের একটি ভিডিও টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভিডিও ভাইরাল ও গ্রিক কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে অভিযুক্ত টিকটকার মো. হাসান অন্যান্য বাংলাদেশিদের উদ্দেশে গ্রিসে চলে আসার আহ্বান জানান। তার বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায়। তিনি গত ৩-৪ বছর ধরে গ্রিসে বসবাস করছিলেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, "আমরা গ্রিসের নাফপ্লিওতে কাজের জন্য আছি, যাদের কাগজপত্র নেই তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। ৫০ বছর এই জায়গাগুলোতে থাকলেও পুলিশ আসবে না।" ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গ্রিক পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

মন্ত্রীর বক্তব্য ও সরকারের কঠোর অবস্থান

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার হওয়া এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানোর বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বাংলাদেশি নাগরিকের থাকার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে গ্রিস থেকে বের করে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, "এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণা মানবপাচারকারী চক্রের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে পারে এবং অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশে আগ্রহী ব্যক্তিদের ভুল বার্তা দেয়। তাই এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার কোনোভাবেই ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা ছাড় দেওয়ার নীতি অনুসরণ করবে না।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুপরিকল্পিত প্রচারণার অংশ

গ্রিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অভিবাসন নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির আরেকটি প্রধান জাতীয় দৈনিক ‘দিমোক্রাতিয়া’য় প্রকাশিত অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রচারণার অংশ। এর মাধ্যমে গ্রিসের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রকার উপহাসের বস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। মন্ত্রী আরও যোগ করেন, এই প্রচারণার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে সম্ভাব্য অবৈধ অভিবাসীদের গ্রিসে আসার জন্য প্ররোচিত করা এবং তাদের এই বিপজ্জনক যাত্রায় উৎসাহিত করা।

বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্বেগ

এ ঘটনা গ্রিসে বসবাসরত সাধারণ ও বৈধ বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ প্রবাসীরা মনে করছেন, সস্তা জনপ্রিয়তা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত সুনামকে এক মুহূর্তে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। স্থানীয় প্রবাসীদের অভিযোগ, গত দুই-তিন বছরে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশ করা কিছু টিকটকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই নানা ধরনের উসকানিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছেন। তাদের এই মুষ্টিমেয় কয়েকজনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের’ খেসারত যেন পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিকে দিতে না হয়, সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা। কারণ এর ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রিক জনগণের চোখে সামগ্রিকভাবে সব বাংলাদেশির প্রতি একটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।