ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা। একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের স্বভাব।
মার্কিন হামলা ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী প্রণালি এবং এর আশপাশে ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
রোববার (২৮ জুন) এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এটি আবারও প্রমাণ করল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্য দেয় না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা এই সরকারের স্বভাবেরই অংশ।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
আইআরজিসির কঠোর হুঁশিয়ারি
মার্কিন হামলার পর নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসির নৌবাহিনী। তারা বলেছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে।’ এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে কোনোভাবেই দুর্বল করতে পারেনি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর ওপর আমাদের গুলি চালানো অন্য জাহাজগুলোর জন্যও স্পষ্ট বার্তা— কোন পথ দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে হবে।’
পটভূমি ও প্রভাব
এই ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট, এবং এখানে যে কোনো সংঘাত বিশ্ব বাজারে তেলের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম হামলা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের হামলাকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন



