বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২৭টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ’র একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে এই অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছে।
ইইউ প্রতিনিধিদলের পর্যবেক্ষণ
ইইউ’র বাণিজ্য বিষয়ক কমিশনার ভালদিস ডোমব্রোভস্কিসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গত সপ্তাহে ঢাকা সফর করে। তারা বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে জিএসপি প্লাস সংক্রান্ত অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে। ডোমব্রোভস্কিস বলেন, “বাংলাদেশ জিএসপি প্লাসের শর্ত পূরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। আমরা এই অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট।”
জিএসপি প্লাস কী
জিএসপি প্লাস হলো ইইউ’র একটি বাণিজ্য সুবিধা, যা উন্নয়নশীল দেশগুলিকে শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়। এই সুবিধা পেতে হলে দেশটিকে ২৭টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়ন করতে হয়, যার মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, শ্রমাধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সুশাসন সম্পর্কিত কনভেনশন।
বাংলাদেশের অগ্রগতি
ইইউ প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ২৭টি কনভেনশনের মধ্যে ২৫টি অনুমোদন করেছে। বাকি দুটি কনভেনশন অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। ডোমব্রোভস্কিস বলেন, “বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করি খুব শিগগিরই তারা সব কনভেনশন অনুমোদন করবে।”
অর্থনৈতিক প্রভাব
বাংলাদেশ বর্তমানে ইইউ’র জিএসপি সুবিধার আওতায় রয়েছে, যা ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হবে। জিএসপি প্লাস সুবিধা পেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হবে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, “জিএসপি প্লাস পেলে আমাদের রপ্তানি ২০-২৫ শতাংশ বাড়তে পারে।”
আগামী পদক্ষেপ
ইইউ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ যদি বাকি কনভেনশনগুলো অনুমোদন করে এবং বাস্তবায়ন করে, তাহলে আগামী বছরই জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে পারে। ডোমব্রোভস্কিস বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। এই সুবিধা পেতে আর বেশি সময় লাগবে না।”



