বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ টানা ৪৫ মাস পর আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সোমবার (২৯ জুন) দিন শেষে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা চলতি মাসের শুরুতে ছিল ৩৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার।
রিজার্ভ বৃদ্ধির কারণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতার ফলে এই অগ্রগতি হয়েছে। এক মাসে মোট রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত মাসে ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।
ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের অবস্থা
মোট রিজার্ভের পুরো অর্থ ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় ও অন্যান্য আর্থিক বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়ায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় বিবেচনায় নিলে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতাকে নিরাপদ রিজার্ভ হিসেবে ধরা হয়।
রিজার্ভের ইতিহাস
২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অর্থপাচার, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় মোট রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
বর্তমান প্রেক্ষাপট
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ডলারের বিনিময় হার ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক করা হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ এবং আমদানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ পর্যায়ক্রমে শিথিল করায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়তে শুরু করে। বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় মোট রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। এরপর ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা ফেরার ফলে দেশের রিজার্ভ আবারও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরে এসেছে।



