মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ, আনু মুহাম্মদ বললেন 'দাসখত'
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে 'জাতীয় স্বার্থবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে' গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
চুক্তি প্রত্যাখ্যান ও অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত দাবি
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বর্তমান জাতীয় সংসদে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এই চুক্তি প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'এই চুক্তি বহাল থাকলে দেশের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা একটা চোখ, কান ও মাথা বন্ধ করা জাতিতে পরিণত হব, যারা নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তি ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জন্য আরও অনেক 'সর্বনাশা' কাজ করেছে। তিনি বলেন, 'অন্তর্বর্তী সরকার অনেকগুলো সর্বনাশা কাজ করেছে। তাঁদের অনেকে হয়তো এখন বিদেশে থাকেন। যেখানেই থাকুক, তাঁদের বিচার করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব।' তিনি এই বিষয়ে তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশ ও অপরাধীদের বিচারের দাবি তুলেছেন।
চুক্তিকে 'দাসখত' আখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিকে 'দাসখত লেখা' আখ্যায়িত করে আনু মুহাম্মদ বলেন, 'যখন ব্রিটিশরা এখানে ঔপনিবেশিক শাসক ছিল, তখন ভারতে কে কী করতে পারবে, সেটা ব্রিটিশরাজ বা ভাইসরয় ঠিক করত। এখন আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আছি, কিন্তু ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের মতো যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক ও কৌশলগত স্বার্থ আমাদের ওপর চাপাবে।'
তিনি সংসদকে এই চুক্তি ডিজওন (অস্বীকার) করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'সংসদে অনুমোদিত না হলে বাণিজ্যচুক্তিটি কার্যকর হবে না। এই চুক্তির কোনো দায়দায়িত্ব এই সরকার বা সংসদ নেবে না, এ রকম একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে।' পাশাপাশি বিদেশি আমদানিনির্ভর ও ঋণমুখী প্রকল্প বাতিলেরও দাবি করেন তিনি।
অন্যান্য বক্তাদের মতামত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা সমাবেশে বলেন, 'এই চুক্তি পড়ে কয়েক রাত ঘুমাতে পারিনি। অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে এই দাসখতে ঢুকিয়ে গেছে।' তিনি উল্লেখ করেন যে, চুক্তিতে এমন ধারা রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ও স্থানীয় শিল্পসহ সবকিছু যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক হারুন অর রশিদ বলেন, এই চুক্তির কারণে ভবিষ্যতে ওষুধ দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে এবং ওষুধশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, 'আমরা এই চুক্তি মানি না। এই চুক্তি বাতিল করতে হবে।'
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ জানান, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বর্তমান বিএনপি সরকারের ভূমিকা পর্যালোচনা করছে এবং ২৫ এপ্রিল সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তিনি সংসদে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান, তেল-গ্যাসসহ অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সবাইকে সরব হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, 'জনগণ যদি নিষ্ক্রিয় থাকে, এই নেতা-সেই নেতার ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাহলে বাংলাদেশ এই বিপদ থেকে বাঁচতে পারবে না।' তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাখতে যেকোনো আধিপত্য প্রত্যাখ্যানেরও আহ্বান জানান।



