হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তে বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন
এই খবরের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারগুলোতে দৃশ্যমান হয়েছে চমকপ্রদ উত্থান। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক ডাউ জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ১ হাজার ২০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর মধ্যে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ১.৩ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট ১.৫ শতাংশ বেড়েছে।
ইরানের ঘোষণার বিস্তারিত
শুক্রবার ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এই উন্মুক্ততা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগর থেকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো পুনরায় বিশ্বব্যাপী গ্রাহকদের কাছে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সুসংবাদ
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। তাই এই নৌপথের সচল হওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। গত মার্চ মাসের শেষ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে প্রায় ১২ শতাংশ উত্থান লক্ষ্য করা গেছে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই আশাবাদ কাজ করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় কোনো বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হবে। এই আশাবাদই শেয়ারবাজারের চাঙ্গাভাবের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালির উন্মুক্ততা কেবল তেলের দাম কমাতেই সাহায্য করছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও ভূমিকা রাখছে।



