ইউরোপের জ্বালানি মজুদ শেষ হতে পারে ছয় সপ্তাহে: আইইএ প্রধান
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল বৃহস্পতিবার সতর্ক করেছেন যে, ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলে ইউরোপের জেট জ্বালানি মজুদ "প্রায় ছয় সপ্তাহ বা তার কিছু বেশি" সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতিতে শীঘ্রই ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী শক্তি সংকটের ভয়াবহতা
বিরোল প্যারিসে তার অফিস থেকে দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "এটি আমরা এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হওয়া বৃহত্তম শক্তি সংকট।" হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, "অতীতে 'ডায়ার স্ট্রেইটস' নামে একটি গ্রুপ ছিল। এখন এটি একটি ভয়াবহ সংকট, এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। যতদিন এটি চলবে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির জন্য ততই খারাপ হবে।"
জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব
বিরোলের মতে, এই সংকটের ফলে পেট্রোল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। তিনি বলেন, "অর্থনৈতিক ক্ষতি অসমভাবে অনুভূত হবে। যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের কণ্ঠস্বর অনেক শোনা যায় না। এটি প্রধানত উন্নয়নশীল দেশগুলো হবে। এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দরিদ্র দেশগুলো।"
২০১৫ সাল থেকে আইইএ নেতৃত্ব দেওয়া এই তুর্কি অর্থনীতিবিদ ও শক্তি বিশেষজ্ঞ যোগ করেন, ইরান যুদ্ধের নিষ্পত্তি না হলে এবং হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে পুনরায় খুলে না দিলে "সবাই ভোগান্তিতে পড়বে।"
কোনো দেশই নিরাপদ নয়
বিরোল জোর দিয়ে বলেন, "কিছু দেশ অন্যদের চেয়ে ধনী হতে পারে। কিছু দেশের কাছে অন্যদের চেয়ে বেশি শক্তি থাকতে পারে, কিন্তু কোনো দেশই, কোনো দেশই এই সংকট থেকে মুক্ত নয়।" তার এই বক্তব্য বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই সতর্কতা বৈশ্বিক শক্তি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য যারা ইতিমধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের চাপ মোকাবেলা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।



