মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসানে জ্বালানি বাজারে স্বস্তি, এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসানে জ্বালানি বাজারে স্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসানে জ্বালানি বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত শীঘ্রই শেষ হতে পারে এমন প্রত্যাশায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস মিলেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ার বাজার খোলার পরপরই তেলের দামে এই পতন শুরু হয়।

তেলের দামে নাটকীয় পরিবর্তন

ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ১ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ০৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। এই পতনের আগে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেলের দাম রেকর্ড গতিতে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছিল। সম্প্রতি তা ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও পুরো সপ্তাহজুড়ে ৯০ ডলারের ঘরেই স্থিতিশীল ছিল।

আলোচনার সম্ভাবনা ও বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া

এই সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আবারও বৈঠক হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন, তা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই আলোচনার সম্ভাবনায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শেষের দিকে যেতে পারে বলে একটি আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে, জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস থাকলেও এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতে জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়। হংকংয়ের শেয়ারবাজারও ০.৬৯ শতাংশ নিচে রয়েছে। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ০.৪৬ শতাংশ এবং তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ০.৮০ শতাংশ কমে লেনদেন শুরু করে। শাংহাই শেয়ারবাজারও দিনের শুরুতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেলেও এশিয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই পরিস্থিতিতে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর এর প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক নজর রাখছেন। জ্বালানি বাজারের এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।