বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও হরমুজ প্রণালি সংকটে অস্থিরতা বাড়ছে
বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে, তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বাজারে অস্থিরতা ও শঙ্কা বেড়েই চলছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ৫২ সেন্ট বা ০.৫৫% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.২৭ ডলারে নেমে এসেছে। আগের সেশনে এটি ৪.৬% কমেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.০৪ ডলার বা ১.১% কমে ৯০.২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনায় দাম কমেছে
মূলত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশ্বাসের পর দামে এই পতন দেখা গেছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাত শেষ করতে আগামী দুই দিনের মধ্যেই পাকিস্তানে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছিল। তবে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আশা করা হচ্ছে, এতে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস: দাম বাড়ার ঝুঁকি
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ম্যাকুয়ের মতে, উত্তেজনা কমলেও তেলের দাম ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে ১১০ ডলারের দিকে যেতে পারে। তবে যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক না হয় এবং এপ্রিলজুড়ে বিঘ্ন চলতে থাকে, তাহলে ব্রেন্ট তেলের দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। কোটাক সিকিউরিটিসের কায়ানাত চেইনওয়ালার মতে, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ১২০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে এবং সংঘাত চলতে থাকলে ১৫০ ডলারও ছুঁতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ও বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের বাজার অস্থিরই থাকবে এবং দাম বাড়ার দিকেই ঝোঁক থাকবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকুচিত থাকবে। এটি ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুটোর দামই বাড়িয়ে দেবে এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াবে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাজার নজরদারি করা জরুরি হয়ে উঠেছে।



