বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আশায়
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার আশা, যা জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমিয়েছে।
তেলের দামের হালনাগাদ তথ্য
আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮.৪০ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ৯৭.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পতন সোমবার দামের বড় উত্থানের পর স্বল্পমেয়াদি সমন্বয়ের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রেক্ষাপট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ইরান সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি বলতে পারি, ওরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা খুবই একটি চুক্তি করতে চায়।’ এই মন্তব্যকে বিশেষজ্ঞরা উত্তেজনা কমার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এর আগে, সপ্তাহান্তে দুই পক্ষের আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ার পর ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের নির্দেশ দিলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। তবে, বর্তমান আলোচনার সম্ভাবনা সেই উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করেছে।
আলোচনার বিস্তারিত ও প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান পাঁচ বছর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য তা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় দুই দেশ পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব বিনিময় করলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা থেকে অনেক দূরে রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক জিয়াজিয়া ইয়াং বলেন, ‘ট্রাম্পের মন্তব্য উত্তেজনা কমার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, বাজার এখন নজর রাখছে যে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করবে কি না, যা উল্লেখযোগ্যভাবে উত্তেজনা কমাতে পারে।
সতর্কতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
তবে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন যে, বর্তমান তেলের দাম মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রকৃত গুরুত্ব পুরোপুরি প্রতিফলিত করছে না। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এপ্রিল মাস মার্চের চেয়েও খারাপ হতে পারে, কারণ মার্চে আমরা যে তেল পেয়েছি, সেগুলো সংকট শুরুর আগেই পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এপ্রিলে নতুন করে কিছুই পাঠানো হচ্ছে না।’ তার মতে, এই বিঘ্ন যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, সমস্যাও তত বেশি গুরুতর হয়ে উঠবে।
সামগ্রিকভাবে, যদিও শান্তি চুক্তির একটি সম্ভাবনা এখনো রয়েছে এবং সামনেই সরাসরি আরেক দফা বৈঠক হতে পারে, তবুও বাজার সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই ওঠানামা ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।



