বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হওয়ার আগে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজের নিয়মিত ও স্থিতিশীল চলাচল নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
হরমুজ প্রণালির চলাচল সংকট
মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও ইউরোপে রপ্তানি হওয়া বিশ্ব তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই পথটি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। তুফটস ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম স্টাডিজের অধ্যাপক রকফোর্ড উইটজ আল জাজিরাকে জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বুধবার (৮ এপ্রিল) মাত্র পাঁচটি এবং বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সাতটি জাহাজ পার হয়েছে। এই বিশাল ব্যবধানই প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনো অনেক দেরি।
জ্বালানি অবকাঠামো ও সরবরাহ সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ এবং বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক ব্যবসার অধ্যাপক উষা হ্যালি জানান, ইরাকের মতো দেশগুলো স্টোরেজ সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল, যা পুনরায় চালু করতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লেগে যাবে। বিশেষ করে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে, যদি নতুন করে কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয়।
বিশ্ব অর্থনীতির উপর প্রভাব
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৩.৩ শতাংশ থেকে আরও নিচে নেমে যেতে পারে। সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো র্যাচেল জিয়েম্বা মনে করেন, যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে এবং এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎ। আপাতত মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ঝুঁকির কারণে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে বেশি থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।



