সৌদি তেল স্থাপনায় হামলা ও হরমুজ প্রণালি সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে স্থবিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতেই জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্টভাবে লক্ষ করা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির প্রভাবে গত সপ্তাহের তুলনায় সামগ্রিক দাম কিছুটা কমেছে বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তেলের দামে তীব্র ওঠানামা
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৮ সেন্ট বা প্রায় ০.৬০ শতাংশ বেড়ে ৯৬.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৯ সেন্ট বা ০.৫০ শতাংশ বেড়ে ৯৮.৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও চলতি সপ্তাহে তেলের দাম মোটের ওপর ১১ শতাংশ কমেছে, যা ২০২৫ সালের জুনের পর এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ দরপতন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
সৌদি আরবে উৎপাদন ব্যাহত
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর তথ্যমতে, দেশটির তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলায় প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক সরবরাহ কমেছে প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল। এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন ঘাটতির খবর বাজারে আসার পর থেকেই সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা তেলের দাম বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।
হরমুজ প্রণালিতে সংকট ঘনীভূত
সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই পথ দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ শতাংশ কম জাহাজ চলাচল করেছে। ইরান দাবি করেছে, এই রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে তাদের জলসীমার নিয়ম মেনে চলতে হবে। এমনকি শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে জাহাজ চলাচলে মাশুল আদায়ের প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান, যা পশ্চিমা দেশগুলো ও জাতিসংঘ প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্রাটাস অ্যাডভাইজরস’-এর প্রেসিডেন্ট জন পাইসি সতর্ক করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বর্তমানের মতো স্থবির থাকলে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৯০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি ক্ষতি
জেপি মরগানের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে এই অঞ্চলে দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধন ক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। যদিও গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে পক্ষগুলো, তবে সংঘাতের রেশ কাটেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।



