তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছুঁল, হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকট
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সরবরাহ বন্ধে দৈনিক ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল ঘাটতি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজার থেকে প্রতিদিন অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ১২ শতাংশের সমান। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই এই বিপর্যয় শুরু হয়েছে। সরবরাহের এই মারাত্মক ঘাটতি মেটাতে ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলোর মধ্যে এখন তেলের দখল নেওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য শোধনাগারগুলোকে ১৫০ ডলারের কাছাকাছি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ফিউচার মার্কেটের বা কাগজের দামকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই অবস্থায় ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে কিছু নির্দিষ্ট মানের অপরিশোধিত তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারে দাম বৃদ্ধির প্রবণতা
গত মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৯.৫০ ডলারে উঠেছিল, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও ২০০৮ সালের ১৪৭.৫০ ডলারের ঐতিহাসিক রেকর্ড এখনও স্পর্শ করেনি, তবে বর্তমান ভৌত বাজারে তাৎক্ষণিক সরবরাহের ক্ষেত্রে সেই রেকর্ড ইতিমধ্যেই ভেঙে গেছে। জুন মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত তেলের চুক্তিতেও দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বিকল্প হিসেবে এখন ইউরোপ ও আফ্রিকার তেলের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে তাৎক্ষণিক সরবরাহের প্রয়োজনে অনেক শোধনাগার রেকর্ড দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা না কমলে জ্বালানি তেলের এই আকাশচুম্বী দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে। ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলো এখন বিকল্প উৎস খুঁজতে ব্যস্ত, কিন্তু সরবরাহের ঘাটতি মেটানো তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।



