ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর জ্বালানি সংকটের মুখে বিশ্ব
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল এক চরম সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ইতিহাসের পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এই সংকট ১৯৭৩ সালের প্রথম তেল সংকট, ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় তেল সংকট এবং ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণজনিত সংকটের সম্মিলিত প্রভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
হরমুজ প্রণালি অবরোধের মারাত্মক প্রভাব
ফরাসি সংবাদপত্র ল্য ফিগারোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইইএ প্রধান স্পষ্টভাবে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান সংঘাতের প্রভাব সত্তরের দশকের জোড়া তেল ধাক্কা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সংকটের সম্মিলিত শক্তির চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
ফাতিহ বিরলের মতে, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে এসব দেশে:
- খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দ্রুত ত্বরান্বিত হবে
- মুদ্রাস্ফীতির হার বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাবে
- সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হবে
পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেছেন যে ইউরোপীয় দেশগুলোসহ জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোও এই অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে না। বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক চরম হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাম্প তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে ইরান যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তিতে না আসে, তবে আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে:
- ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ১১০.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে
- নিউ ইয়র্ক লাইট ক্রুডের দাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে ১১৫.১৭ ডলারে পৌঁছেছে
ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা এখন বিশ্ববাসীর প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে যদি সংঘাত আরও তীব্র হয়।
বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
এই জ্বালানি সংকট শুধুমাত্র তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পড়বে:
- বিশ্বব্যাপী উৎপাদন শিল্পে
- পরিবহন খাতে
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে
- কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায়
ফাতিহ বিরল জোর দিয়ে বলেছেন যে এই সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।否则 বিশ্ব অর্থনীতি একটি দীর্ঘমেয়াদী মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে, যা গত শতাব্দীর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটগুলোর সাথে তুলনীয় হবে।



