ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
ইরানের প্রধান তেল রফতানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপে হামলার খবরের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেল বাজারে উল্লম্ফন
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার খবরের পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট-এর দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে সরবরাহের জন্য প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই তেলের দাম এখন ১১৪ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই বৃদ্ধি সরাসরি হরমুজ প্রণালি নিয়ে সংঘাতের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দামও ঊর্ধ্বমুখী
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুড-এর দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। জুন মাসে সরবরাহের জন্য এই তেলের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১০ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছেছে। এই প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা ও সরবরাহের উপর হামলার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
খার্গ দ্বীপের কৌশলগত গুরুত্ব
ইরানের তেল উৎপাদনের জন্য খার্গ দ্বীপ অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দ্বীপের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলার বিষয়টি মার্কিন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে, এবং বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলবে, বিশেষ করে পরিবহন ও শিল্প খাতে।
এই পরিস্থিতিতে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, এবং ভবিষ্যতে আরও ওঠানামা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।



