জ্বালানি আমদানিতে বাণিজ্য ঘাটতি ৫৯% বৃদ্ধি, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের তাগিদ
জ্বালানি আমদানিতে বাণিজ্য ঘাটতি ৫৯% বৃদ্ধি, সৌরবিদ্যুৎ তাগিদ

জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এমবারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ব্যাপক জ্বালানি আমদানির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। চলমান ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সাশ্রয়ী ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনের মূল তথ্য ও সতর্কতা

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত ‘দ্য ইলেকট্রিক ফাস্ট-ট্র্যাক ফর ইমার্জিং মার্কেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশে সহযোগিতা করেছে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামে (সিভিএফ) ও ভি-২০। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এমবার একটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা সংস্থা হিসেবে পরিচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জ্বালানি আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এই ব্যয় আরও ৩০ বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশের অবস্থান ও চ্যালেঞ্জ

ইতোমধ্যে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্ধেকের বেশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩ শতাংশ, যা বৈশ্বিক সংকট থেকে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চেইঞ্জ ইনিশিয়েটিভ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম জাকির হোসাইন খান বলেন, “জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ইতোমধ্যে পরিবার ও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে বাংলাদেশকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।” তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সৌর প্রযুক্তির সুযোগ ও সম্ভাবনা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির দাম গত এক দশকে ৩০ থেকে ৯৫ শতাংশ কমেছে, যা এসব প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য করেছে। বিকেন্দ্রীকৃত সৌরব্যবস্থা গ্রিড সম্প্রসারণ ছাড়াই দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে এবং আমদানিনির্ভরতা কমায়।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাংলাদেশকে অস্থির আন্তর্জাতিক বাজারের ঝুঁকিতে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌরশক্তি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর সমাধান হতে পারে।”

ভবিষ্যতের সুযোগ ও সুপারিশ

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ কম খরচের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তরের সুযোগ রাখে। এতে জ্বালানি প্রবেশাধিকার বাড়বে, আমদানি ব্যয় কমবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

  • জ্বালানি আমদানি ব্যয় ২০২৪ সালে ১৫৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
  • ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অতিরিক্ত ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়তে পারে।
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার মাত্র ৩ শতাংশ, যা অপর্যাপ্ত।
  • সৌর প্রযুক্তির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • বিকেন্দ্রীকৃত সৌরব্যবস্থা আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরিবেশগত সুবিধা বয়ে আনতে পারে।